১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

তীব্র হচ্ছে বন্দর রক্ষায় আন্দোলন

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যে জন-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু শ্রমিকদের তরফ থেকে নয়, এটি জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের আস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত্ত, যার মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট আর সিদ্ধান্তের পেছনের প্রক্রিয়া সীমিত পরিসরে গোপনীয় রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতেই স্কপসহ (শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ) বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বন্দর রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে।বন্দর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা লিখিত নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করতে রাজি নন। কারণ তাঁদের আশঙ্কা স্পষ্ট, ইজারা প্রক্রিয়ায় শ্রমিকস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বন্দরের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম’-এর গণসমাবেশ ও মশাল মিছিলে সাধারণ মানুষও যুক্ত হয়েছেন, যা প্রমাণ করে বিষয়টি শুধু শ্রমিক আন্দোলন নয়, বরং জনগণের আস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ।এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে একটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘একটি দেশের ভবিষ্যৎ এমন সরকারের দ্বারা নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়, যাকে দেশ নির্বাচিত করেনি।’ তাঁর মতে, বন্দরের বিষয়ে গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় সম্পদের ওপর কৌশলগত প্রতিশ্রুতি, যা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে দিচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকারেরই শুধু এ ধরনের সুদূরপ্রসারী নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যা বহু দশক ধরে প্রভাব ফেলবে।বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার এবং এর ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত লাখো মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে জনমতকে বিরক্তির বিষয় মনে করে ‘গতি’ ও ‘অপরিহার্যতা’র নামে যৌক্তিক উদ্বেগগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হলে তা গণতন্ত্র ও জবাবদিহির প্রতি চরম অবমাননা।সর্বোপরি বন্দর আধুনিকায়ন বা আন্তর্জাতিক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন অনস্বীকার্য হলেও প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের আস্থানির্ভর। জাতীয় সম্পদ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত অবশ্যই নির্বাচিত সরকারের অধীনে, জনমতের ভিত্তিতে ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিচার করে নেওয়া উচিত। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের—এ বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন জরুরি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়