ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায়। আর মাত্র চার দিন পর আগামী ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হতে পারে। আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সময় আছে মাত্র দুই মাসের মতো।নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকেই চেয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারাই আগামী নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকদেরই (ডিসি) এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও মাঠ পর্যায়ের সমন্বয় সক্ষমতার কারণে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে জেলা প্রশাসকদেরই নিয়োগের পক্ষে ইসি।
আজ রবিবার ইসির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।
অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলো থেকে এবারের নির্বাচন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ এবার একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। পৃথক ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তদুপরি গণভোট প্রশ্নে বিভ্রান্তি এবং মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের একটি উত্তরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলতে হবে। এ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মক ভোটেও তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত দলগুলো গণভোট অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটিই উত্তর চাওয়া হয়েছে, এটি বিভ্রান্তিকর। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণভোটের যে উদ্দেশ্য, তা একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটে বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আর গণভোটে ‘না’ জয়লাভ করলে তা সবার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।” অন্যদিকে সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকায় এরই মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশের আলোকে বিধিমালা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) প্রয়োজনীয় সংশোধনীর অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার দুই বিভাগীয় কমিশনার এবং দেশের ৬৪ জেলার ডিসিসহ মোট ৬৬ জনকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে অনেক কিছু এই দুই পদধারীদের ওপর নির্ভর করে। তাই আমরা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি।’ অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ তাদের মধ্য থেকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। নির্বাচন যত কাছে আসবে, তত অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষজ্ঞরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। আমরা আশা করি, গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে।

