নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের একটি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সের ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তারা সবাই যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে ভাই, বোন ও ভগ্নিপতি। নিহতরা হলেন, ঝাঁপা ইউনিয়নের রাজগঞ্জ বাজার এলাকার রহমতউল্লাহর ছেলে সাকিবুর রহমান নিশান (২৩), মেয়ে নীলা খাতুন (২৫) এবং নীলার স্বামী মিজানুর রহমান (৩৫)। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাওয়ার পথে তারা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী নীলা খাতুন ও শ্যালক নিশান নিহত হন। নিহত মিজানুর রহমান কেশবপুর উপজেলার ভাল্লুকঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি ঋণদান সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। নিশান রাজগঞ্জ বাজারের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নীলা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান প্রায় এক মাস আগে স্ট্রোক করে যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার সকালে স্ত্রী নীলা ও শ্যালক নিশান তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। নিহত নীলা-মিজানুর দম্পতির ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে নিশান কয়েক মাস আগেই বিয়ে করেছিলেন। প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর শনিবার সকালে নিশানের স্বজনরা ভাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন লাশ আনতে। তিনি বলেন, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা হয়েছে। স্বজনরা পৌঁছালে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, দুর্ঘটনায় মণিরামপুরের একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে নিহতদের পরিবার কোনো আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে ঝাঁপা ইউনিয়নসহ পুরো রাজগঞ্জ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

