প্রতিদিনের ডেস্ক:
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস সামিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, টিকিটের এই দাম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর চাহিদাই বলে দিচ্ছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইনফান্তিনোর ভাষায়, মাত্র দুই সপ্তাহে বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য রেকর্ড ১৫ কোটি আবেদন জমা পড়েছে, যা ফিফার ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফুটবল প্রেমীরা টিকিটের এই দামকে অতিরিক্ত ও অমানবিক বলে দাবি করেছেন। তবে ফিফা প্রধানের দাবি এটি কেবল উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ।
টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমর্থকদের উদ্বেগের জবাবে ইনফান্তিনো একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত একশ বছরের ইতিহাসে ফিফা সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৪০ লাখ টিকিট বিক্রি করেছে। অথচ আগামী বিশ্বকাপের জন্য মাত্র ১৫ দিনেই তার চেয়ে বহুগুণ বেশি চাহিদা দেখা গেছে। তিনশ’ বছরের বিশ্বকাপের সমতুল্য। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বিপুল রাজস্ব পুনরায় ফুটবলের উন্নয়নেই ব্যবহার করা হবে। তার মতে, ফিফা বিশ্বের একমাত্র সংস্থা যা সারা পৃথিবীতে ফুটবলকে টিকিয়ে রাখতে অর্থায়ন করে। এই আয় না থাকলে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ফুটবল পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপসহ বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী ফিফার এই ব্যবসায়িক মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে। সমালোচনার মুখে ফিফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা সীমিত পরিসরে মাত্র ৬০ ডলার মূল্যের কিছু টিকিট বাজারে ছাড়বে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যার পরেই রয়েছে জার্মানি ও ব্রিটেনের নাম।

