ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আগে ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২৯৮টি আসনে (পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন বাদে) মোট এক হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, যাঁরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন, তাঁদের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বলা হচ্ছে। বিএনপির এ রকম প্রায় অর্ধশত প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মোট দুই হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রিটার্নিং অফিসারদের বাছাইয়ে ৭২৬ জন বাদ পড়লে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৮৫৮। বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩৯ জন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন এবং প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩১ জন। ২০ জানুয়ারি শেষ সময় পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ৩০৫ জন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি আটটি আসনে শরিক দলগুলোকে ছাড় দেয়। এর মধ্যে জমিয়তে উলামা চারটি আসনে এবং নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থীরা একটি করে আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়বেন। বাকি ২৯২টি আসনসহ ৩০০ আসনে বিএনপি মূল এবং বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ৩৩১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। এর মধ্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ছিল তিনটি আসনে। তাঁর মৃত্যুর কারণে ওই তিনটি আসনে বিকল্প প্রার্থীরা রয়েছেন। অন্য বিকল্প প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বা মূল প্রার্থী বাদ পড়ায় বিকল্পরা টিকে আছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা মোট ২৭৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রিটার্নিং অফিসারদের বাছাইয়ে কক্সবাজার-২ আসনে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদসহ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়াও মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় বাদ পড়েন তাঁরা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তাঁদের সবাই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ১০ দলীয় জোটের সর্বশেষ সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াত ২২০, এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, খেলাফত মজলিস ১৩, এলডিপি সাত, এবি পার্টি চার, নেজামে ইসলাম পার্টি তিন এবং বিডিপি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর বাইরেও কিছু দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাঁরা এ জন্য দায়ী করছেন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসাসহ আরো কিছু কারণকে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশে নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর।
উৎসবমুখর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু
Previous article
Next article
আরো দেখুন
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ৮২ জন নিখোঁজ
প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলে ভূমিধসে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ প্রশমন...
পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবলো জাহাজ, ১২ বাংলাদেশিকে উদ্ধার
প্রতিদিনের ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবলো ফ্লাই অ্যাশ বা ছাই বোঝাই একটি বাংলাদেশি জাহাজ। জাহাজটি পশ্চিমবঙ্গের বজবজ থেকে ফ্লাই অ্যাশ বা...

