১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেড়েই চলেছে মানবাধিকার লঙ্ঘন

প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক অনেক বেশি। বিগত সরকারের শাসনামলে গুমসহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। অনেক রক্তের বিনিময়ে সেই অপশাসনের অবসান ঘটেছে। কিন্তু পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে আরো অবনতি হয়েছে।
মব সন্ত্রাস, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, নির্বিচারে মামলা দেওয়া ও জামিন না হওয়া, নারীদের হেনস্তার মতো ঘটনাগুলো এখনো সমাজ-বিবেককে পীড়া দিচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রায় সব সূচকের অবনতি দুর্বল মানবাধিকার পরিস্থিতিই নির্দেশ করে।গত শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকারের পরিস্থিতি : একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে আলোচকরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে তাঁর লিখিত মূল প্রবন্ধটি পড়ে শোনান গুম কমিশনের আরেক সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী।
প্রবন্ধে বলা হয়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের জড়িয়ে হাজার হাজার বানোয়াট মামলার নিষ্পত্তিই এখন বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় গুম কমিশনের আরেক সদস্য মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, ‘হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা, মব তৈরি করে মানুষকে হেনস্তা, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো কাজগুলো কিন্তু আমরা এখনো প্রত্যক্ষ করছি।’অন্যদিকে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে আসছে, মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো না কমে বরং আরো বাড়ছে। শনিবার প্রদত্ত মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অন্তত ২৯টি গণপিটুনির ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ২৬ জন। এ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন বেড়েছে প্রায় সব সূচকে। গত ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে ১১ জন বেশি নিহত হয়েছেন। ডিসেম্বর মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিলেন ১০ জন। একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসের চেয়ে আহতের সংখ্যা ২৪ থেকে বেড়ে ২৬ হয়েছে। এমএসএফের তথ্য মতে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ডিসেম্বর মাসে ছিল ছয়টি, যা জানুয়ারিতে বেড়ে ২১টি হয়েছে। জানুয়ারি মাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতে দুজনের মৃত্যু এবং কারা হেফাজতে ১৫ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। নির্যাতনে আরো দুজনের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। বেড়েছে অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধারের ঘটনাও। আমরা আশা করি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। মানুষকে ভীতিকর অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়