২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

শেষ হলো ফলাফলের অপেক্ষা

সব সন্দেহ-অবিশ্বাস-আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কিছু ঘটনা ঘটলেও মোটাদাগে নির্বাচন ছিল শান্তিপূূর্ণ, যদিও কয়েক দিন আগে থেকেই ভোট কেনাবেচা ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলো এবার অনেক বেশি তৎপর ছিল। তা সত্ত্বেও কয়েকটি আসনে নির্বাচনে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আজ শুক্রবারের মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এই আসনের নির্বাচনের তফসিল পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে। জানা যায়, শেষ দুই দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা-ভাঙচুর, বাড়িঘরে ভাঙচুর, গোলাগুলির কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে সেগুলো ছিল অতীতের নির্বাচনগুলো থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ভোট চলাকালে খুলনা মহানগরীর আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়। বিএনপির অভিযোগ, একজন জামায়াত নেতার ধাক্কায় পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ২৮। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নারী ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামী দলগুলোর নারী প্রার্থী নেই। এ বছর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। গত দেড় দশকে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক অভিযোগ ছিল। দিনের ভোট রাতে, ডামি নির্বাচনসহ নানাভাবে খ্যাত এসব নির্বাচনে বেশির ভাগ ভোটারের উপস্থিতি ছিল না। যাঁদের বয়স এখন ত্রিশের কোঠায় পৌঁছেছে, তাঁদের একটি বড় অংশ এবারই প্রথম নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। ভোটদানের এই আনন্দ তারা নানাভাবে প্রকাশও করেছে। শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, পুরো বিশ্বই তাকিয়ে ছিল এই নির্বাচনের দিকে। আমরা আশা করি, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতার আসনে আসিন হওয়ার প্রস্ত্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তাদের প্রার্থীরা ২৯৭ টির মধ্যে ২১২ টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেবে। তারা জাতির কাছে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করে সুখী-সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়