২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলায়মানিকে হত্যার সরাসরি প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার (১৮ মার্চ) আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলায় তারা অন্তত চার ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের এই আকস্মিক ও তীব্র আক্রমণে ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। লারিজানি হত্যার পর এই আক্রমণটি দুই দেশের চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে।ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের ‘বহুস্তর বিশিষ্ট এবং অতি-উন্নত’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানে ইরান মূলত খোররামশাহর-৪, কদর, ইমাদ এবং খায়বার শেকান নামক চারটি ভিন্ন মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি থেকে অন্তত ৮০টি ছোট ছোট বিস্ফোরক বা সাব-মিউনিশন সরাসরি তেল আবিবে আঘাত হেনেছে। ইরানওয়াচের তথ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিচ্ছে।ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের রাজধানী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, তেল আবিব জেলার রামাত গানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজন পুরুষ এবং একজন নারী নিহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে, তবে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তাদের এই হামলা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বলয়ে ধস নামাতে সক্ষম হয়েছে। এই হামলার ভিডিওচিত্র ও ছবি ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে আবাসিক এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
বর্তমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আলী লারিজানি ও তাঁর সহযোগীদের হত্যার পর ইরান যে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই হামলা তারই প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সামনের দিনগুলোতে এই সংঘাত আরও বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়