২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বাড়ছে

ঈদ মানে আনন্দ। প্রিয়জন ও বন্ধুবান্ধবদের সান্নিধ্যে আসা কিংবা নাড়ির টানে মানুষ বাড়ি ফিরে। সাধারণ সময়ের তুলনায় এই সময়ে যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই এ সময় সড়ক, ট্রেন, নৌপথ এমনকি বিমানপথেও যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে যায়। যানবাহন পেতে সমস্যা হয়। গাদাগাদি করে চলাচল করতে হয়। যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়। শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি অনেক বেড়ে যায়। তার পরও মানুষ বাড়ি ফেরে। কষ্ট ভুলে যায় বাড়ি ফেরার আনন্দে। এ বছর দুর্ভোগ একটু বেশিই হতে পারে। কালের কণ্ঠে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনেক দিন সড়ক-মহাসড়কের পর্যাপ্ত সংস্কার না হওয়ায় বেশির ভাগ সড়কেরই চরম দুরবস্থা। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ভাঙাচোরা মহাসড়ক সবচেয়ে বেশি রাজশাহী অঞ্চলে, ২২৯ কিলোমিটার; রংপুরে ১৯৪ কিলোমিটার, চট্টগ্রামে ১৮৬, কুমিল্লায় ১৬৭, ময়মনসিংহে ১৫০, সিলেটে ১৪৮, ঢাকায় ১৪৩, বরিশালে ১১৯ ও খুলনায় ৬৮ কিলোমিটার। সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি বলেছেন, সড়কপথের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনেক কাজ শেষ হয়েছে।
আশা করা যাচ্ছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের কারণে, অর্থাৎ তেল পেতে অসুবিধা না হলে তাঁরা সহজভাবেই যাত্রীর চাপ মোকাবেলা করতে পারবেন। আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা ক্রমেই কমছে। তদুপরি বছরের এই সময়টায় নাব্যতা আরো কমে যায়। তার পরও কয়েকটি রুটে নৌযান চলাচল করে। ঈদের সময় নৌপথেও যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বহু যাত্রীর প্রধান ভরসা হয়ে পড়ে নৌযান। অভিযোগ আছে, এ সময় ফিটনেসহীন অনেক নৌযান চলাচল করে, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করে এবং এসব কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আমরা চাই না এবার তেমন কোনো ঘটনা ঘটুক। ট্রেনে ভ্রমণ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ, আর্থিকভাবে কিছুটা সাশ্রয়ী এবং মোটামুটি সময়মতো চলাচল করে। তাই ঈদের সময় ট্রেনে চলাচলের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলো প্রতিদিন আসনমাফিক ৩১ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারে। ঈদের আগে ট্রেনে রাজধানী ছাড়তে এবং ঈদের পর ফিরে আসতে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ ভিড় করে। ফলে এ সময় ট্রেনে বহু মানুষ গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে চলাচল করে এবং অনেককে দেখা যায় ট্রেনের ছাদে চড়তে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। জানা যায়, ইঞ্জিনসংকট, কোচের স্বল্পতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ট্রেন পরিষেবায় কিছু পরিমাণে ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে। ঈদের আরেকটি বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ। পর্যটন স্পটগুলো এ সময় সরগরম হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয় কক্সবাজারে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক হওয়ায় প্রশাসনকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি রাখতে হবে। প্রতিবছরই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অনেক পর্যটকের জলে ডুবে মৃত্যু হয়। প্রশাসনকে সৈকতের নিরাপত্তায়ও বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা আশা করি, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে এবং তাদের নিরাপত্তায় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। যাত্রীদেরও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল বন্ধ করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়