৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কালীগঞ্জে গাইড বাণিজ্যে অর্ধকোটি টাকার লেনদেন : ২৬ লাখ টাকা ‘গায়েব

সোহেল আহমেদ, কালিগঞ্জ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ গাইড বই বাণিজ্যে অর্ধকোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সমিতির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে। একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার শর্তে এই চুক্তি করা হয়, যা সরাসরি শিক্ষা নীতিমালা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিব উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই চালুর আশ্বাস দেন। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ লাখ টাকার চুক্তি করে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সমিতির রূপালী ব্যাংক হিসাব (নং-৮৪৭)-এ ২৪ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বাকি অর্থ নগদে গ্রহণ করা হয়েছে, যার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাবে জমা হয়নি। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। চড়াদামে এই কোম্পানির বই কিনতে অভিভাবকরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ ও কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিস ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ৪২ দিন পার হলেও রিপোর্ট জমা হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই তদন্তে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত নেতা আহসান হাবিব এর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি জানান আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অন্য নেতা আমিনুস সোবাহান একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি প্রকাশনা প্রতিনিধি নিকট অভিযোগটি জানতে চাইলে তিনি বলেন উপঢৌকন দেওয়া এখন মার্কেটিংয়ের অংশ। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন,টাকার বিনিময়ে গাইড বই শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্টদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ও সচেতন মহল।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়