অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে সেটি আইনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে থাকলেও কিছুটা তড়িঘড়ি করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়টি স্থায়ী রূপ দিলেন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপি বলেছিল, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে তারা অবস্থান নেবে না। পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানারে প্রচারসহ কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। বলা হয়েছে, সংগঠনটির পক্ষে কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।গতকাল জানিয়েছে, গত বুধবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়, যদিও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলটি পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়েছিলেন। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিলটি পাসের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে, এখন আর নতুন করে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই।এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে বলেন।
আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম একটি রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গেও দলটির নাম ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। নিকট অতীতে দলীয় কর্মকাণ্ডের সমালোচনা থাকলেও দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিশ্লেষকদের পর্যালোচনা রয়েছে।তাঁরা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মধ্য দিয়ে তেমন সুফল পাওয়া যায় না, বরং অনেক সময় এটি দেশ ও জাতির জন্য সংকট তৈরি করে। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিও কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ সমর্থন করে না।আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগের যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁদের অবশ্যই সাজা হওয়া উচিত। তবে আইন যেন প্রতিশোধের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। তাহলে সমাজে সহিংসতা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর একটি অংশ (তা যত বড় বা ছোট হোক) কিভাবে রাজনীতির চর্চা করবে, তা সরকারকে ভাবতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করলে ফল উল্টো হয়। কাজেই নতুন এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে সরকারকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

