চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর পর নতুন করে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ইছেরদাড়ি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। একসময় এলাকার পানির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত এই খালটি বছরের পর বছর অবহেলায় পলি, আগাছা ও দখলে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। তবে পুনঃখনন উদ্যোগ ঘিরে এখন খালপাড়ের মানুষের চোখে নতুন স্বপ্নের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি পুনরুদ্ধারে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। এজন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আশির দশকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খালটি সর্বশেষ খনন করা হলেও এরপর আর তেমন কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে অধিকাংশ অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এবং কোথাও কোথাও দখলও হয়। এতে খালের পানির প্রবাহ ব্যাহত হয়ে উল্টো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ক্ষতির মুখে পড়ে শত শত বিঘা কৃষিজমি। খাল থাকলেও দীর্ঘদিন সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন কৃষকরা। পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় আশাবাদী স্থানীয় কৃষকরা। তাদের মতে, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষিতে নতুন গতি আসবে, উৎপাদন বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের সহযোগিতা রয়েছে। প্রকল্পটি যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পায়, সেদিকে নজর রাখা হবে। প্রকল্পের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায় জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন নজর রাখবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তলদেশের গড় প্রশস্থতা ৭ মিটার ও গড় গভিরতা ১.৫০ মিটার করে খনন কাজ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি উপকৃত হবেন ৫ হাজার ২শ মানুষ।

