খায়রুল আলম
তেপান্তরের প্রান্তে
তেপান্তরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে একা,
দিগন্তজুড়ে নীরবতা রেখা।
তটিনী বয়ে আনে অচেনা সুর,
মনে কড়া নাড়ে স্মৃতির ঘুঙুর।
প্রবল বজ্রপাতে মেঘ ডাকে বিষণ্ন গান,
সূর্য পালিয়ে যায়, আঁধারে হারায় প্রাণ।
পথের শেষে নেই কোনো চেনা ঠিকানা,
তবুও হৃদয় খোঁজে আপন বারামখানা।
ধূলিমাখা পথে পায়ের চিহ্ন পড়ে রয়,
কেউ কি আসবে ফিরে, সেই অপেক্ষায়?
অচেনা এই প্রান্তর, তবুও কত আপন,
নিঃসঙ্গতায় খুঁজি আমি, মুক্ত সেই গগন।
তেপান্তরের ওই সীমানা পেরিয়ে,
হয়তো পাবো সুখ, নতুন ভোরের স্বপ্ন নিয়ে।
তাই দাঁড়িয়ে থাকি আমি, আশা ভরা শখে,
জীবনের গান গাই নীরবতার চোখে।
****
মায়া
কে জানতো মায়া কী!
কে জানতো মোহ কী!
মহিমান্বিত সেই দুটি আঁখিতে,
আলিঙ্গনে যে পলক পড়ে না।
চক্ষুদ্বয়ের বাহুবন্ধন,
এ যেন অন্তর গহীনে
চৈত্রের কালবৈশাখী,
এ যেন পালতোলা নৌকার
অনিয়ন্ত্রিত তীব্র ধাক্কা।
তোমাতে বিভোর তনুমন,
ঠিক তখনই মিলিয়ে গেলে
হারিয়ে গেলে ধরণী থেকে
চারপাশে অন্ধকারাচ্ছন্ন,
তীব্র যন্ত্রণা, তীব্র বজ্রপাত।
ওই চূড়াকে প্রশ্ন করো
কতটা বিভোর ছিলাম,
ওই নদীকে প্রশ্ন করো
কতটা উদ্বিগ্ন ছিলাম তোমায়?
উত্তরে পাবে, সাত আসমান সমান।

