১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ন্যাটো মিত্র দেশকে শাস্তি দেবেন ট্রাম্প? কী আছে পেন্টাগনের ই-মেইলে?

প্রতিদিনের ডেস্ক:
পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইল থেকে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে এমন কিছু পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু ন্যাটো মিত্র দেশকে শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছে। অভিযোগ হলো, এসব দেশ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দেয়নি।এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো জোট থেকে বাদ দেওয়া এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, “এসব প্রস্তাব একটি নোটে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অনিচ্ছা বা অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ‘এবিও’ নামে পরিচিত। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও ওই নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।ওই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইমেইলে বলা হয়েছে ‘এবিও’ বা মিত্রদের ঘাঁটি, আকাশসীমা ও প্রবেশাধিকার দেওয়া ন্যাটোর জন্য একেবারে ন্যূনতম দায়িত্ব। তিনি আরো জানান, পেন্টাগনের উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
ই-মেইলের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তাদের ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন।
তার অভিযোগ, ইরান সংকটের সময় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে তারা নিজেদের নৌবাহিনী পাঠায়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলা শুরুর পর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘তিনি ন্যাটো জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।’
১ এপ্রিল রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ছেড়ে যেতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি যদি আমার জায়গায় থাকতেন, তাহলে কি তাই করতেন না?’ কিন্তু ই-মেইলটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এমনটা করার কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এতে ইউরোপে ঘাঁটি বন্ধ করারও কোনো প্রস্তাব নেই।তবে বিকল্পগুলোর মধ্যে ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সেনা প্রত্যাহারের বহুল প্রত্যাশিত পদক্ষেপটি অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কিছু বলতে রাজি হননি।
ই-মেইলটি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলি উইলসন উত্তর দেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ন্যাটো মিত্রদের জন্য সবকিছু করা সত্ত্বেও, তারা আমাদের পাশে ছিল না।’
উইলসন বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যাতে আমাদের মিত্ররা কাগুজে বাঘ না হয়ে বাস্তবেও তাদের দায়িত্ব পালন করে। এ জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য বিভিন্ন বিকল্প রাখা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিস্তারিত নিয়ে আমরা আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়