খুলনা প্রতিনিধি
মামলার নথি পেতে দেরি হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার। ২০-২৫ জন আইনজীবী ও আসামিদের সামনে এ ধরণের আচরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে বিচারক আদালত ছেড়ে নিজের কক্ষে চলে যান। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে আদালতের কার্যক্রম প্রায় দুই ঘন্টার মতো বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ওই বিচারক বিচারপ্রার্থীদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে আবারও বিচারালয়ে ফিরে আসেন। বিকেলে আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিচারকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ ব্যাপারে তারা জানান যে নিজেরা বিষয়টি ঠিক করে নেবেন।
আদালতের সূত্র জানায়, এজলাস চলাকালীন বেলা ১১ টার সময় লবণচরা থানার সিআর ১৮৪/২৫ মামলার আসামি বাবু শেখের জামিন ধরতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো: ফরিদুজ্জামানের আদালতে আসেন বিএনপি পন্থি আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার। কিন্তু ওই মামলার ফাইল পাওয়া যাচ্ছিল না আদালতে। ফলে ক্ষুব্ধ হন ওই আইনজীবী। দুপুর দেড়টার দিকে ওই আইনজীবী ২০-২৫ জন আইনজীবী ও আদালত চত্বরে থাকা আসামিদের সামনে বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণ করেন আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার। বিচারক ও আইনজীবির মধ্যে তর্ক ও বিতর্কের এক পর্যায়ে ওই আইনজীবী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এতে বিচারক অপমানিত হয়ে এজলাস ত্যাগ করে নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর বিচারকার্যক্রম দুই ঘন্টার মতো বন্ধ ছিল। এতে অনেক আসামিকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। পরববর্তীতে মানবিক কারণে তিনি পূনরায় আদালতে ফিরে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুজ্জামানের সাথে অনেক খারাপ আচারণ করেছেন। এমন আচারণ সভ্য সমাজে কাম্য নয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী তাপস পাল জানান, লবণচরা থানার একটি মারামারি মামলার আসামি বাবু শেখের জামিন নিতে এসেছিলেন তিনি। তার ফাইল অন্য আদালতে থাকায় সেটি পরবর্তীতে আমাদের আদালতে আনা হয়। এর আগে আইনজীবী আদালতে লঙ্কাকাণ্ড বাঁধিয়ে দিলেন। তার আচরণ ছিল খুবই আপত্তিকর ছিল। এদিকে বিকেল ৫ টার দিকে আদালত চত্বরে আবুল হোসেন হাওলাদারের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, আদালতে তিনি দর্শক হিসেবে ছিলেন। আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্র্ণ অস্বীকার করেন। বিকেল ৫ টার কিছুক্ষণ পর বিচারকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মাসুম রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো: মশিউর রহমান নান্নুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা আধাঘন্টার বেশি সময় বিচারকের সাথে কথা বলেন। বের হওয়ার সময় সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তারা বলেন, এটা আমাদের নিজস্ব বিষয়। আদলতে মাঝেমধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা আমরা নিজেরা ঠিক করে নেব। খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো: ফরিদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন বলে জানান।

