আশাশুনি সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বায়ার কোম্পানির প্রতিনিধির ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার করে ৮০ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন এক তরমুজ চাষী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের নড়েরাবাদ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পবিত্র কুমার মন্ডল। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চাম্পাখালি মৌজায় ৮০ বিঘা জমি হারি নিয়ে তরমুজ চাষ করেন পবিত্র মন্ডল। গাছে ছোট-বড় ফল ধরা শুরু হলে পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বায়ার ক্রপসায়েন্স লিঃ এর কৃষি পরামর্শদাতা পরিচয় দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি আরও জানান, গত ১ মার্চ বিকালে বিশ্বরূপ নিজে তার ক্ষেতে এসে বলেন আমি বায়ার কোম্পানির হেড অফিস যশোর থেকে এসেছি। আমি এ এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের তরমুজ ক্ষেতের পরিচর্যা করে থাকি। আমার কাছ থেকে ১২ দিন চিকিৎসা নিলে আপনার তরমুজ গাছ সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে এবং আশানুরূপ ফল দেবে। বিশ্বরূপের পরামর্শে ৭ এপ্রিল ৩টি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বালাইনাশক ঔষধ কিনে ক্ষেতে প্রয়োগ করা হয়। ৬/৭ দিন পরে তরমুজের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় বিশ্বরুপের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অন্য কোন কোম্পানির ওষুধ প্রয়োগ করতে নিষেধ করেন। যেটা দেওয়া হয়েছে, সেটা আরও ১২ দিন প্রয়োগ করতে বলেন। কিন্তু এরপর অধিকাংশ তরমুজ গাছ মরে যায়। এতে তার সরাসরি ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। যেখানে ৮০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পবিত্র মন্ডল জানান, এনজিওসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করে এখন তাকে পথে বসতে হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বরূপের সাথে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তালবাহানা করছেন। এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

