১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস, উচ্চ ঝুঁকিতে ১৩ জেলা

প্রতিদিনের ডেস্ক:
দেশে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রভাবে মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে বাড়ছে ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ,এই তিন মাসে অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ৪৬০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।গড়ে মাসে ১৫৩ জন এবং প্রতিদিন ৫ জনের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের ১৩টি জেলা ম্যালেরিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।এমন বাস্তবতায় আজ (২৫ এপ্রিল) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য—“Driven to End Malaria: Now We Can. Now We Must।” এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া নির্মূলে জোর দেওয়া হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় ম্যালেরিয়া ছিল দেশের বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।তবে সরকারের উদ্যোগ ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রচেষ্টায় গত দেড় দশকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা।পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বান্দরবানে ২১৪ জন, রাঙামাটিতে ১৭৯ জন, কক্সবাজারে ৪৯ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন। এর আগে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১০ হাজার ১৬২ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১৬ জন।বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা—এসবই মশার বংশবিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এ প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও জঙ্গলে চলাচলের কারণে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নিতে অনীহা থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মসূচি, উন্নত নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া ম্যালেরিয়া নির্মূল করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়