প্রতিদিনের ডেস্ক:
সাড়ে ১৪ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী সায়েদ আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার নিষ্পত্তি হলো।রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।রাশেদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ অর্থ আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর সন্তানের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রায় ঘোষণার সময় সায়েদ আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৫ জুন সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রেহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিশেষ করে রেহানার নামে থাকা একটি বাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হতো।২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার মা রেজিয়া বেগম মেয়ের বাসায় গেলে প্রথমে দরজা খুলতে দেরি করেন সায়েদ। পরে ভেতরে ঢুকে তিনি মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। শরীর ঠান্ডা এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখে তার সন্দেহ হয়। আশপাশের লোকজন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও সায়েদ ও তার ভাই শফি আহমেদ বাধা দেন।পরে রেহানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও দ্রুত তাকে দাফন করা হয়। এ সময় পরিবারকে বলা হয়, তিনি ‘স্ট্রোক’ করেছিলেন।ঘটনার পর রেজিয়া বেগম কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।আদালত প্রথমে থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও প্রাথমিক প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেন। সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান তদন্ত শেষে সায়েদ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ পান এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে সহ-অভিযুক্ত শফি আহমেদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি।বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য, আলামত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত সায়েদ আহমেদকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।

