১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সু-স্বাগতম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুন্দর সাহা
বিশ্বনেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান, আপনাকে আপামর যশোরবাসীর পক্ষ থেকে সু স্বাগতম ও অভিবাদন। চতুর্দিকে জয়জয়কার। যশোরবাসী অধীর আগ্রহে জননেতার আগমনের অপেক্ষায়। কতরকম আনন্দ-আয়োজন! বিজয়ী বীরকে কে না অভিনন্দন জানায়! রাস্তার ভিখারি থেকে অট্টালিকাবাসী সবারই একই সুর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য সম্মান, গৌরব ও অহঙ্কার নিয়ে আসছেন, জয় হোক তারেক রহমানের। ঈশ্বর আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘায়ু দান করুন। বর্তমান সরকার ও জনগণের সাফল্যের প্রতীক। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশে ছেড়ে পালানোর পর জন-গণ নন্দিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপ। দেশজুড়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর ও ভূমিকা আজ সর্বত্র প্রশংসিত। সবশেষে সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাপী জ্বালানী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজ দেশে যে দক্ষতা ও সাফল্য দেখিয়েছে তা আজ বিশ্বদরবারে আলোচনার বিষয়বস্তু। আপনি আসছেন, যশোরের আপামর জনতা তাই আনন্দিত! আপনাকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাতে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ ছিল। কিন্তু আপনিই নির্দেশ দিয়েছেন অহেতুক কোন আড়ম্বর নয়।

আপনার নির্দেশ মোতাবেক কোন গেট-তোরণ-ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে যশোরকে সাজাতে দেননি আধুনিক যশোরের রূপকার তরিকুল ইসলামের উত্তরসূরী বিদ্যুত, জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাঅনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাইতো যশোরবাসী ফুলের পাপড়ি বিছিয়ে, হৃদয়ের সব উষ্ণতা দিয়ে আপনাকে বরণ করবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সদ্য বিগত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর ও খুলনা সফর করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আমরা সদ্য বিগত সংসদ নির্বাচনে তেমন কিছু দিতে পারিনি। তথাপি আপনি দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কার্পণ্য করেননি। আপনি ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য এড. আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মাগুরার প্রবীণ রাজনৈতক সংসদ সদস্য এড. নিতাই রায় চৌধুরীকেও পূর্ণ মন্ত্রী করেছেন।

যশোরের অবিসংবাদিত নন্দিত জননেতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের উত্তরসূরী যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাগেরহাট রামপালের এমপি শেখ ফরিদ উদ্দীনকেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আপনার মন্ত্রী সভায় জায়গা করে দিয়েছেন। এটা আপনার মহানুভবতা। মামনীয় প্রধানমন্ত্রী তাইতো আপনাকে স্বাগত জানাতে নানা আয়োজনে প্রস্তুত যশোর। প্রধানমন্ত্রী যশোর ঈদগাহ ময়দানে লাখ-লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেবেন। তার আগে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুরের সেই জিয়া খাল ফের প্রাণ প্রতিষ্টা করতে ৫০ বছর পর বাবার কাটা খাল পুনঃখননে যশোর আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর সেই মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছেন আধুনিক যশোরের রূপকার সাবেক সফলমন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের উত্তরসূরী তারই সুযোগ্যপুত্র বর্তমান বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাইতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফর ঘিরে উন্নয়নের প্রত্যাশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছে যশোরবাসী।

সরকার গঠনের পর এটিই যশোরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জনসভা। সফরের শুরুতে শার্শার উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় বড় ধরনের উন্নয়ন ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ভাষ্য, বেনাপোল-ঢাকা রুটে নতুন একটি ট্রেন চলাচল, যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত, বেনাপোল-যশোর-নড়াইল মহাসড়ক ৬ লেন করা, যশোরে আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, যশোর জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সুবিধা ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন, যশোর বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরও একটা নতুন ট্রেন চলাচলের, যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর, যশোরকে পর্যটন নগরী ঘোষণা, বসুন্দিয়াকে ইপিজেড থানা ঘোষণা, জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং একটি আধুনিক শিশু পার্ক স্থাপনের দাবি যশোরবাসীর।

যশোরবাসী দীর্ঘদিন ধরে এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছেন। এছাড়া যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা হবে এমন প্রত্যাশায় প্রহর গুণছে এই জনপদের মানুষ। আজ থেকে ৫০ বছর আগে যশোরের শার্শা উপজেলা উলাশী এলাকার বিস্তীর্ণ জমি বছরের বড় অংশ জুড়ে পানির নিচে থাকত। কৃষকরা ফসল ফলাতে পারতেন না, এলাকায় ছিল তীব্র দারিদ্র্য। এই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগ নেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর খাল খননের সূচনা করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সে সময় জননেতা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শার্শা জনপদের হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন সেদিন।

মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন সম্পন্ন হয়।ওই অঞ্চলে ঘটে কৃষি বিপ্লব। তবে বর্তমানে সেই খালটি মৃতপ্রায়। যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ সেই খালটির প্রাণ ফেরাতে বাবার মতো কোদাল হাতে আজ খাল খনন করবেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সাথে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে থাকবেন আধুনিক যশোরের রূপকার তরিকুল ইসলামের ছেলে বিদ্যুৎ জ¦ালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শার্শা উপজেরার আমজনতা মনে করেন, উলাশী-যদুনাথপুরের জিয়া-খালটি পুনরায় সচল হলে কৃষি ও মৎস্য খাতে বিপ্লব ঘটবে, যা সামগ্রিকভাবে উলাশীসহ গোটা শার্শার অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেবে। এছাড়া মৎসজীবিরা ও মাছ আহরন করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। এই খালের সাথে রয়েছে ২২ টি বিলের সংযোগ। ভারত থেকে পানি আসলে এই খাল দিয়ে নেমে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার এর অভাবে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কারন ভারতে যখন পানির চাপ বেশী হয় তখন তাদের গেট খুলে পানি বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়।

যশোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আগমনকে ঘিরে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর যশোর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় নানা ভোগান্তিতে পড়েছে যশোর মেডিকেল কলেজের (যমেক) শিক্ষার্থীরা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে এবং অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতাল ভবনে কলেজের কার্যক্রম চালু হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল নির্মাণ আর এগোয়নি। দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি আসে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্মাণকাজে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, তৃতীয় বর্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু হওয়ায় নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে শেষ বর্ষে সন্ধ্যাকালীন ক্লাস থাকায় যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাদের মতে, কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপিত হলে শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলসহ প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ১০ তলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, মসজিদ এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। বিএনপি নেতারা বলছেন,এই সফর যশোর অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমকে নতুন গতি দেবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন দাবি করেন,“এই সফর যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”

একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগমও। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল। সেই অপূর্ণ স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে পূরণ হতে যাচ্ছে। এতে যশোরবাসী উচ্ছ্বসিত। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে যশোরবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে। আশাকরি পর্যায়ক্রমে সেই দাবি বাস্তবায়ন হবে। এদিকে, যশোর শহরে ইতোমধ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও প্রস্তুতি একেবারে শেষ পর্যায়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “পুরো শহরকে নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এই সফর মূলত একটি দলীয় কর্মসূচি,যা স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। যশোরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মনে করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার এই কর্মকাণ্ড, আপনার উপস্থিতি আমাদের সাহস জোগাবে, প্রেরণা জোগাবে, উজ্জীবিত করবে। সামনে আমাদের বহু পথচলা। যেতে হবে বহুদূর। ষড়যন্ত্রকারী-সন্ত্রাসী ও কুচক্রীদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে আপনার নেতৃত্বে জাতি এগিয়ে যাবে আগামী দিনের সোনালি দিগন্তে। আপনাকে অভিনন্দন প্রিয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি দীর্ঘজীবী হোন।

 

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়