উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যে জড়িয়ে ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক, দপ্তরী, নৈশ প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিয়ে তিনি উক্ত টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ। এমনকি অনুমোদন না থাকা সত্তেও কম্পিউটার ল্যাব এ্যাসিসট্যান্ট পদে নিয়োগের শর্তে বাপী মিস্ত্রি ও বনচারী মন্ডল নামের আরও দু’জনের নিকট থেকে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।এছাড়া প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে বাদঘাটা গ্রামের এক বাড়িতে তিনি ‘ভূয়া’ নিয়োগ বোর্ড বসিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।তার এমন সাগর চুরির ঘটনায় তদন্তপুর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে মোঃ ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর এবং জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায় রবিউল ইসলাম ২০১৯ সালে প্রথমবার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পর্যায়ক্রমে সহকারী প্রধান শিক্ষক,দপ্তরী ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন। এসময় ঐসকল পদে নিয়োগের বিনিময়ে শেখ আসলাম আহমেদ,সবুজ আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেনের নিকট থেকে যথাক্রমে ১৫, ১২ ও ২০ লাখ টাকা আদায় করেন তিনি। পরবর্তীতে করোনাকালে কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে রবিউল ইসলাম অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নৈশ প্রহরী পদে আরও তিনজনকে নিয়োগ দেন।এসময় মিঠু বরকন্দাজ,নবতরন মিস্ত্রি ও সুফিয়ান গাজীকে এসব পদে নিয়োগের বিনিময়ে আরও ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা সদরের বাদঘাটা গ্রামের দেবাশীস মিস্ত্রির এক বাড়িতে ‘ভূয়া’ নিয়োগ বোর্ড বসিয়েছিলেন।এসময় অনুমোদন না হওয়া সত্তেও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে কম্পিউটার ল্যাব এ্যাসিসট্যান্ট পদে নিয়োগ দেয়ার মর্তে ধুমঘাটের বাপী মিস্ত্রি ও ভেটখালীর বনচারী মন্ডলের নিকট থেকে পৃথকভাবে ১৬ লাখ টাকা গ্রহন করেন।
ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন স্থানীয় প্রার্থীরা একজোট হয়ে সভাপতির চাহিদামত টাকা দিতে সম্মত হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি রাজশাহী থেকে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের একজনকে ডেকে এনে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন।
অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন কোন টাকা ছাড়া তিনি নিয়োগ পান।তবে অপরাপর নিয়োগের বিষয়ে সভাপতির একক সিদ্ধান্তে হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।টাকা লেনদেন হয়ে থাকলে তার সবই সভাপতি জানে বলেও তিনি দাবি করেন। রবিউল ইসলাম জানান আগে কোন টাকা তিনি গ্রহন করেননি। তবে সম্প্রতি কম্পিউটার ল্যাব এ্যাসিসট্যান্ট পদে নিয়োগের জন্য বাপী মিস্ত্রির পরিবার বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে তার কাছে ১২ লাখ টাকা রেখেছে। তবে বাদঘাটা গ্রামের এক বাড়িতে ‘ভূয়া’ নিয়োগ বোর্ড বসানোর ঘটনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজান কবীর বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হবে।তবে দুদক কার্যালয়ের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

