২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা কাল পেলে পরশুই দেশে ফিরব : সাকিব

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোদমে রাজনীতিতে সময় দিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কোনোকালেই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ থাকলেও এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন সাকিব আল হাসান। এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেন তিনি। দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’সাবেক এই সংসদ সদস্য রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে। যে দল এটি শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।সাকিব বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি তো এবারের (অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সম্ভাব্য) নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’
পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব উল্লেখ করে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।’
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিবের নামে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। এসব মামলাকে আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে তিনি ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও ‘হয়রানি’কে দেখছেন।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়