প্রতিদিনের ডেস্ক:
তালা ভাঙলেই বিপ্লবী হওয়া যায় না, এই মেয়েদের কেউ বুঝান এমন মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলম।মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জুলাই একবারই এসেছিল। মেয়েদের হলের তালা ভেঙে আসা বাঁধভাঙা জোয়ারকে সাপোর্ট দিয়েছিল সারাদেশের মানুষ। কারণ সেটি ছিল দীর্ঘদিনের এক নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।তিনি লেখেন, এরপর যতবার তালা ভেঙে বের হয়েছে, ততবারই নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সার্ভ করতে। ব্যাপারটা এখন হাস্যকর পর্যায়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালা ভেঙে বের হইলেই বিপ্লবী হওয়া যায় না, তা এই মেয়েদের কেউ বুঝান। দুইদিন পরেই উপলব্ধি করবে যে তাদের ব্যবহার করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেও করে সে উপলব্ধি এখন। রাজনীতিতে মেয়েদের কেন অংশগ্রহণ নেই, কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নমিনেশন পান না, সেই মাইন্ডসেট জানতে এই তালাভাঙা পার্টিকে দেখতে হবে। কী চায় নিজেও জানে না, কিন্তু আরেকজন কেন এম্পাওয়ার্ড হবে সেটা আটকাতে হবে। আর বরাবরের মতোই যে গোষ্ঠীটা মেয়েদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকুচিত করতে চায় সেই সব সংস্থার টার্গেট হবে।মানসুরা আক্তার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ‘মানসুরা আলম’ নামেই বেশি পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের এই ছাত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্মুখসারিতে থাকতেন। একাধিকবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন মানসুরা। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ছিলেন।২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদলের প্রার্থী ছিলেন। একসময় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ থেকে এবার সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদে গেলেন।

