প্রতিদিনের ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সায়নী ঘোষের মাথা কেটে আনলে এক কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের সেকান্দরাবাদের বিজেপি নেতা ও পৌর চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিত এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।গত রোববার (১৮ মে) বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। তবে ভিডিওটি ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই বিজেপি নেতা।গত রোববার সেকান্দরাবাদে হিন্দু সংগঠনগুলো সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে শিবলিঙ্গ অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই তৃণমূল নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো পোস্ট দিয়েছেন।সমাবেশ চলাকালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে প্রদীপ দীক্ষিতকে বলতে শোনা যায়, যে ব্যক্তি সায়নী ঘোষের কাটা মাথা এনে দিতে পারবে, তাকে তিনি নিজের পক্ষ থেকে এক কোটি রুপি পুরস্কার দেবেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিত। তিনি দাবি করেন, রোববারের সমাবেশে তিনি অংশ নিয়েছিলেন ঠিকই, তবে এই বক্তব্য তার নয়।গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রদীপ দীক্ষিত বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেইনি। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কিছু দুষ্কৃতকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি বিকৃত ও কারসাজি করেছে।’ভিডিওটির সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।সায়নী ঘোষকে নিয়ে এই ধর্মীয় বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ২০১৫ সালের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে। সে সময় তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে দেবতা শিবকে নিয়ে একটি অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। ২০২১ সালে সায়নী রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বিজেপি সভাপতি ও সাবেক রাজ্যপাল তথাগত রায় এই ঘটনায় কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলাও করেছিলেন।অভিযোগের জবাবে সায়নী ঘোষ দাবি করেছিলেন, সে সময় তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। তবে বিজেপি এই ব্যাখ্যা মেনে নেয়নি। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সায়নী যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তখনও বিজেপি নেতাকর্মীরা এই ইস্যুটি ব্যাপকভাবে সামনে এনেছিলেন।

