১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

স্মার্টফোনের মতোই চার্জ দিতে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের বল!

প্রতিদিনের ডেস্ক
স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার কথা তো সবাই জানেন, কিন্তু এবার ফুটবল ম্যাচের আগেও বল চার্জ দিতে হবে! শুনতে অদ্ভুত শোনালেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের ক্ষেত্রে এটাই বাস্তব। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে মাঠের মূল উপাদান অর্থাৎ বলের ভেতরেই। এবারের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’-এর ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে একটি বিশেষ মোশন সেন্সর, যা বলের প্রতিটি স্পর্শ, মুভমেন্ট এবং দিক পরিবর্তন রিয়েল টাইমে নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করতে পারে। আর এই অত্যাধুনিক সেন্সরটি সচল রাখতেই ম্যাচের আগে মোবাইল ফোনের মতোই চার্জ দিতে হবে বিশ্বকাপের বলকে! বলটির ঠিক মাঝখানে অ্যাডিডাসের তৈরি একটি ৫০০ হার্টজের মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা রেকর্ড করতে সক্ষম। এর অর্থ হলো, মাঠে খেলোয়াড়দের পায়ের প্রতিটি হালকা স্পর্শও সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়বে এই চিপে। বলের গতি, ঘূর্ণন (স্পিন) এবং গতিপথ একদম নিখুঁতভাবে রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বলটির ভেতরের একটি প্যানেলে এই সেন্সরটি এমনভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে বসানো হয়েছে, যাতে বলের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে। এই চিপটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম, যার কারণে মাঠে খেলার সময় ফুটবলাররা সাধারণ বলের সঙ্গে এর কোনো পার্থক্যই টের পাবেন না। এই বলের আসল শক্তি প্রকাশ পায় যখন এর ডেটা স্টেডিয়ামের ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হয়। বিশ্বকাপের প্রতিটি ভেন্যুতে বসানো একাধিক ক্যামেরা সার্বক্ষণিকভাবে খেলোয়াড়দের নড়াচড়া ট্র্যাক করবে। ক্যামেরার এই ডেটা যখন বলের সেন্সরের তথ্যের সঙ্গে মিলবে, তখন পুরো ম্যাচের একটি ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি হবে। এটি মূলত ফুটবলের গোল-লাইন টেকনোলজি, টেনিসের হক-আই এবং অন্যান্য খেলার ট্র্যাকিং চিপের এক অপূর্ব সমন্বয়। এই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া সব তথ্য সরাসরি এবং রিয়েল টাইমে চলে যাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভিএআর’ সিস্টেমে। এর ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল, ফাউল কিংবা বল লাইনের বাইরে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো রেফারিরা চোখের পলকে এবং শতভাগ নির্ভুলভাবে নিতে পারবেন। বলটিতে ঠিক কোন মুহূর্তে স্পর্শ লেগেছে, তা একদম নিখুঁতভাবে জানা যাবে বলে অফসাইডের চুলচেরা বিশ্লেষণে আর কোনো ধোঁয়াশা থাকবে না। ‘ট্রিওন্ডা’ নামের এই স্মার্ট বলটি একবার ফুল চার্জ দিলে টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা সচল থাকে, যা একটি ম্যাচের জন্য যথেষ্ট। তবে ম্যাচের আগে নিয়ম করে অন্য সব সরঞ্জামের মতোই এটি চার্জ দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। মাঠের খেলা চলাকালীন রেফারিদের শতভাগ সাহায্য করলেও খেলোয়াড় বা দর্শকদের চোখে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ অদৃশ্যই থাকবে। এর আগেও ফুটবলে কানেক্টেড বল টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই সংস্করণটি আরও দ্রুত গতিসম্পন্ন, আরও নিখুঁত এবং ম্যাচ পরিচালনার সিস্টেমের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। উত্তর আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ‘ট্রিওন্ডা’ বলটি জানান দিচ্ছে, আধুনিক ফুটবল কোন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়