উত্তম চক্রবর্তী,রাজগঞ্জ
কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সংগ্রহ করা পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা। বিক্রি না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩০ মে) রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়কের হানুয়ার গ্রামের মাহাবুর রহমানের মাছের ঘেরের পাশে প্রায় ১৫ বস্তা চামড়া এবং দোদাড়িয়া গ্রামের আমতলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় আরও কয়েক বস্তা চামড়া রাতের আঁধারে কে বা কারা ফেলে রেখে যায়। পরে এসব চামড়া পচতে শুরু করলে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ। হানুয়ার গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী নিলু জানান, এবারের কুরবানির ঈদে গ্রাম থেকে চামড়া কিনে শহরে নিয়ে গেলেও কাংক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “চামড়া বিক্রি না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ফেরত এনে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছেন। এতে ব্যবসায়ীদের যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার পাশে ফেলে রাখা চামড়া পচে অসংখ্য মাছি, পোকামাকড় ও রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় ইউপি সদস্য খালেদুর রহমান টিটু ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দ্রুত এসব পচা চামড়া অপসারণ না করলে এলাকায় রোগজীবাণুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে সড়ক ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত রাস্তার পাশ থেকে পচা চামড়া অপসারণের পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ ও বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

