প্রতিদিনের ডেস্ক:
গণঅভ্যুত্থানের পরে হান্নান মাসউদ সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে হান্নান মাসউদের মিটিং শুরু হয় আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়ে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে তার অসংখ্য মিটিং হয়েছে। পল্টনের হোটেল ফার্সের কয়েকটা টেবিল যেন একপ্রকার হান্নান মাসউদের জন্য বরাদ্দ থাকতো। একবার আওয়ামী লীগের এক এমপিকে ৪ কোটিতে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার আলাপ ওঠে।” বুধবার (৩ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে এক পোস্টে এ কথা লিখেন তিনি।তিনি লিখেন, “আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে বৈঠক শেষ করে হান্নান মাসউদ জিসানকে বলে, ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা পয়সার দরকার আছে! এ কথা শুনে একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায় জিসান! হান্নান মাসউদের অনেক ঘটনার রাজসাক্ষী হাতিয়ার এই সন্তান আবদুল গাফফার জিসান।” রাশেদ খান আরো লেখেন, “২৭ জুলাই থেকে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল গফফার জিসান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাদের সাথে এই ছেলেটি ছিলো। ৩ জন সমন্বয়কদের ভিডিও বা ছবি তুলতে ক্যামেরার পিছনের মানুষটিই ছিলেন এই আবদুল গফফার জিসান। জিসান সম্পর্কে রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকারকে জিগ্যেস করলেও উত্তর পাবেন। জিসানের ছোট ভাই হান্নান মাসুদের বন্ধু, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এবং শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আর জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। হান্নান মাসুদের সাথে গণঅভ্যুত্থানের পরেও বেশকিছুদিন জিসান ছিলো।” মূলত গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান হান্নান মাসউদকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজেই সাথে থাকতো। কিন্তু হান্নান মাসউদের টাকার প্রতি মোহ ও আকস্মিক পরিবর্তন জিসান মেনে নিতে পারে নি। যেকারণে সে আর হান্নান মাসুদের সাথে থাকেননি বলেও দাবি করেন তিনি।বিএনপির এই নেতা বলেন, “নোয়াখালীর হাতিয়ার আওয়ামী লীগের এমপি মোহাম্মদ আলী যেন ছিলো হান্নান মাসুদের এমপি হওয়ার পথের কাঁটা! হান্নান মাসউদ এটা বুঝতে পেরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতেই তাকে গ্রেপ্তার করাতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন জায়গায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বক্তব্যও দিয়েছে হান্নান মাসউদ। ঘরোয়া আলাপে সে বলেছে, নোয়াখালীর যত আওয়ামী লীগ আছে, কারও সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নাই। আমার একমাত্র দ্বন্দ্ব মোহাম্মদ আলীর সাথে। এমনকি বিভিন্ন আলাপে সে লোকজনকে বোঝাতে চেয়েছে, নোয়াখালীর এমপি হতে কোয়ালিটি ও কোয়ানটিটিতে তাকে মোহাম্মদ আলীর মত অর্থবিত্তের মালিক হতে হবে।”

