প্রতিদিনের ডেস্ক:
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাজারের টেকসই উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান।
মাসুদ খানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘গত কয়েক দিনে আমি যে বিপুল পরিমাণ শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও সমর্থনের বার্তা পেয়েছি, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।’ ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে বিনম্র ও সম্মানিত বোধ করছি।’
তিনি লেখেন, ‘আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করি যে দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, বাজারকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সহজ কাজ নয়। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ ‘এই দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। অতীতের চেয়ারম্যান ও কমিশনগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টার সঙ্গে নানান ধরনের ঝুঁকি জড়িত। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে সামনে থাকা কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন যে, মানুষের প্রত্যাশা কখনো কখনো স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।’বিএসইসি চেয়ারম্যান লেখেন, ‘এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত ত্যাগও জড়িত ছিল। দীর্ঘ ও সফল করপোরেট জীবনের পর এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে গিয়ে আমাকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা এবং একটি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পেশাগত অবস্থান ছেড়ে আসতে হয়েছে। তবে জনসেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।’ ‘আমার পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সহকর্মীরা আমাকে এই দায়িত্বকে দেশের জন্য কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখতে উৎসাহিত করেছেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হলে চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা এবং ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়। জাতীয় দায়িত্ববোধ এবং জনস্বার্থে কাজ করার এই অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত আমার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।’ ‘তাই আমি বিনয়ের সঙ্গে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। সামনে যে কঠিন পথ রয়েছে সে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। একই সঙ্গে আমি বিশ্বাস করি, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ যেমন একটি সম্মানের বিষয়, তেমনই এটি একটি বড় দায়িত্বও।’ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের কাজ শুধু বাজারকে পুনরুদ্ধার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে, সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে হবে, ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে হবে, বিনিয়োগকারী শিক্ষা বাড়াতে হবে এবং বাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।’ একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ এবং যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমার মূল নীতি হবে— ‘যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রণ, আর যেখানে সম্ভব সেখানে সরলীকরণ।’ ‘আমি এই দায়িত্ব পালন করব বিনয়, দৃঢ় সংকল্প এবং গভীর কর্তব্যবোধ নিয়ে। আমি এটাও বিশ্বাস করি যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একা সফল হতে পারে না। আপনাদের মতামত, পরামর্শ এবং গঠনমূলক সমালোচনা আমি মনোযোগ দিয়ে শুনবো এবং সর্বদা পুঁজিবাজার, বিনিয়োগকারী এবং বৃহত্তর অর্থনীতির সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করবো।’মাসুদ খান আরও লেখেন, ‘সারা জীবন ও কর্মজীবনে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এসেছি যে আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এমনভাবে এসেছে, যা আমি আগে কল্পনাও করিনি বা তখন পুরোপুরি বুঝতেও পারিনি। এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও আমি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। ইনশাআল্লাহ, তার দিকনির্দেশনা ও রহমতে আমরা সামনের চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।’ ‘আমাদের সামনে যে কাজ রয়েছে তা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা, সমর্থন ও শুভকামনা নিয়ে আমরা অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবো এবং একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’তিনি আরও লেখেন, ‘আপনাদের উৎসাহ, সমর্থন এবং দোয়ার জন্য আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব পালনে সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রইলাম।’

