২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কেশবপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি জবর দখল করে দোকান ঘর নির্মানের অভিযোগ

মাসুম বিল্লাহ, কেশবপুর
কেশবপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখল করে দোকান ঘরে নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী প্রতাপ মন্ডল। রোববার বিকেলে উপজেলার পরচক্রা গ্রামের মৃত চিত্ত রঞ্জন মণ্ডলের ছেলে প্রতাপ মন্ডল পরচক্রা বাজারে শত শত মানুষকে সাথে নিয়ে ও-ই সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রতাপ মন্ডল লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা পেশায় মৎস্যজীবী এবং পরচক্রা বাজারে নিজেদের জমিতে নির্মিত তিনটি ঘরের ভাড়ার টাকায় ৩ পরিবারের ১৭ সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমাদের শরীকরা পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৮৮ নং পরচক্রা মৌজার ৪৪৩ ও ৫৬৮ নং খতিয়ানের ১৪৫২ নং দাগের ৭৫ শতক জমির মধ্যে ৩৭ শতক জমি ভোগ দখল করে আসছেন। ওই জমির দক্ষিণ পাশ থেকে গত বছর অন্য এক শরীক মহারানীর ৮ শতক জমি ক্রয় করেন একই গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন। সে ওই দাগের দক্ষিণ পাশ থেকে জমি ক্রয় করলেও দলিলের চৌহদ্দি না মেনে গত ২০ মে জমির উত্তর পাশ থেকে ৮ শতক জমির দোকান ঘর ভেঙ্গে নতুন করে দোকান নির্মান করে জবর দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। উক্ত জমিতে ঘর নির্মানে বাধা দেওয়াই ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা করে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এবিষয়ে কেশবপুর থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুফল পাইনি। সংখালঘু সম্প্রদায়ের লোক হওয়াই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগটি আমলে না নিয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল বিশ্বাসকে আমাদের জমিতে দোকান ঘর নির্মানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করছে। এজন্য আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ইসমাইল বিশ্বাস টাকার জোরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের জমি দখল করে দোকান নির্মান করলেও সংখালঘু হওয়ায় সুশীল সমাজের টনক নড়েনি। এ নিয়ে ওই জমির চার শরীকের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। এবিষয়ে তিনি প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নিরুপায় হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি । এসময় স্থানীয় দুই শতাধিক নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। পরচক্রা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরিফ বিল্লাহ বলেন, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পরচক্রা মৌজার ৪৪৩ দাগের ৩৭ শতক জমি তাদের ৪ শরীকগন ভোগ দখল করে আসছে। এ জমির দক্ষিণ পাশ থেকে গত বছর অন্য এক শরীক মহারানীর ৮ শতক জমি ক্রয় করেন একই গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন। সে ওই দাগের দক্ষিণ পাশ থেকে জমি ক্রয় করলেও দলিলের চৌহদ্দি না মেনে গত ২০ মে জমির উত্তর পাশ থেকে ৮ শতক জমি জবর দখল করে নেয়। এ নিয়ে ওই জমির চার শরীকের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। এবিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি নেপাল মন্ডলের শরীক মহারানী মন্ডলের কাছ থেকে ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। এ জমি দখলে নিলে বাদী তপন কুমার মন্ডলসহ অনেকে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, উভয় পক্ষ নিয়ে থানায় বসা হয়েছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় উভয় পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়