নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রসের সুনাম ও গৌরব টিকিয়ে রাখতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০ লাখ খেজুরের বীজ বপনের বৃহৎ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’-এর উদ্যোগে এবং যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় সোমবার (৮ জুন) এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উদ্বোধনী দিনে যশোর সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা এলাকার প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে খেজুরের বীজ বপন করা হয়। দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা এবং যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী। এছাড়া ‘উদ্যাম’-এর আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাহানি আক্তার রুপা ও তুহিনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় যশোর জেলার সরকারি পতিত জমি, রেললাইনের পাশ ও প্রধান সড়কগুলোর দুই ধারে ২০ লাখ খেজুরের বীজ বপন করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যশোরের খেজুরের রসের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘উদ্যাম’-এর সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, সরকারি হিসাব ও জরিপ অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে যশোর জেলায় প্রায় ৫০ হাজার উৎপাদনশীল খেজুরগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় দেড় হাজার গাছি পেশা ছেড়ে দেওয়ায় বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস উৎপাদন কমে গেছে। ফলে খাঁটি খেজুরের রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে একসময় ‘যশোরের যশ খেজুরের রস’ শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তাই ঐতিহ্য রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের জন্য খেজুরগাছ সংরক্ষণে আমরা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।” কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণেই নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, মাটির ক্ষয়রোধ এবং পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যশোরে খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

