প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাজধানীর পল্লবীতে বহুল আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির রায়ের কপি অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে, বিচারকের স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) মামলার ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।আইন অনুযায়ী, কোনো মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় এখন উচ্চ আদালতের পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।গত রোববার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে পাঠানো হয়েছে।রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর প্রধান আসামিকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার স্ত্রীর সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হয়। মামলায় তালিকাভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর অধিকাংশের সাক্ষ্যও দ্রুত সময়ে নেওয়া হয়।রায় ঘোষণার দিন আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই শিশুটির মরদেহ একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামিকে প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়।তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এখন রায়টি আইন অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

