কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাট পৌর এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এদিকে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পৌরবাসীর মধ্যে এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই খোদ পৌরসভা চত্বরসহ রাহাতের মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, সাধনার মোড়, পুরাতন কোর্ট মসজিদ সড়ক, জেলা প্রশাসকের বাংলো সড়ক, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, ফলপট্টি ও মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর পথ না থাকায় এ ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আসন্ন বর্ষার আগে ড্রেনেজ উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।ইজিবাইক চালক নূর ইসলাম বলেন, ১ ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই পৌরসভার রাস্তা, সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়সহ বিভিন্ন রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় পানির তলে ভাঙ্গা রাস্তায় পড়ে গাড়ি উল্টে যায়। বর্ষাকালের আগেই যদি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এবছর আরও বেশি বিপাকে পড়তে হবে। বাগেরহাট পৌরসভার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠে যায়। বাড়ি ঘর তলিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। বাগেরহাট পৌরসভার মত একটি এলাকায় বর্ষাকালে ময়লা পানি দিয়েই থালা বাসন, কাপড় চোপর ধোয়াসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়। এখন এই বর্ষার আগেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে এই এলাকা বসবাসের উপযোগী থাকবে না। নাগের বাজার এলাকার বাসিন্দা ভোলা চন্দ্র বলেন, এই নদী আগে বেশ গভীর ছিল। এখানে মানুষজন মাছ ধরতো কিন্তু এখন তো সব সময় ময়লা বোঝায় থাকে। মাঝেমধ্যে নামমাত্র পরিষ্কার করে। দুই-চারদিন পর আবার আগের মতো হয়ে যায়। নদীতে ময়লার কারণে একদম শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থায় থাকলে জলাবদ্ধতা দিন দিন বাড়বে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বাগেরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস কে এ হাসিব বলেন, বাগেরহাটে ৮টি খাল রয়েছে। এই খালগুলো দখল ও ময়লার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সরু হয়ে গেছে। সেখান থেকে পানি এখন সরতে পারে না। সেগুলো যদি দখলমুক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করা হয় তাহলে জলাবদ্ধতা কমানো যাবে। এছাড়া জোয়ারের সময় পানিতে শহর তলিয়ে যায়। শহর রক্ষা বাঁধের গেটগুলোতে পাটের ব্যবস্থা করলে জোয়ারের সময় এ পানি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটে যে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত। এ ড্রেনে পানি সরে যাওয়ার বিপরীতে পানি আরও জমে থাকছে। এছাড়া নিয়মিত পরিষ্কার না করার জন্য বাগেরহাট শহরের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দীন বলেন, আমাদের এখানে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছি। পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে জুন মাসে এসেছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছি। আমাদের যে খালগুলো আছে সেগুলোর মুখ আটকে গেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে খালগুলো নিয়ে কাজ শুরু হবে। এতে করে কিছুটা জলাবদ্ধতা কমবে। এছাড়া অতিদ্রুত জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

