মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রায় এক মাস ধরে ভোটার স্থানান্তর (মাইগ্রেশন) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তথ্য হালনাগাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এ সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। অভিযোগ উঠেছে, সার্ভার ত্রুটির কথা বলা হলেও মূলত অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে মোংলা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার স্থানান্তরের নতুন আবেদন গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি ও প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা পাচ্ছেন না। নির্বাচন অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও শুধুমাত্র ভোটার স্থানান্তর সেবা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। শামীমা বেগম রুমু নামের এক ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, গত ১৩ মে তার ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু প্রায় এক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত ফোনে কোনো এসএমএস বা আবেদন সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য পাননি। বিষয়টি জানতে একাধিকবার নির্বাচন অফিসে গেলেও প্রতিবারই তাকে সার্ভার সমস্যা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানানো হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী রুমা হিরা ও তার স্বামী তরুণ চন্দ্র জানান, ঈদের পরে অফিস খুললে তারা সব কাগজপত্র নিয়ে নির্বাচন অফিসে জমা দিতে যান। পরে জানতে পারেন নির্বাচন কর্মকর্তা ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন। পরে সার্ভার ত্রুটি রয়েছে জানিয়ে কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে কাগজপত্র জমা নেওয়া হলেও বলা হয়, সার্ভার ত্রুটি রয়েছে। কবে নাগাদ আপনাদের ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে তা অনিশ্চিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোটার স্থানান্তরের তথ্য এন্ট্রির জন্য ব্যবহৃত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইডি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন অফিস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা বা কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ওই আইডি বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোটার স্থানান্তরের আবেদনগুলো সিস্টেমে এন্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না এবং পুরো কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া তার কিছুই করার নেই।’ সমস্যার কথা স্বীকার করেন বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার। তবে কবে নাগাদ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

