প্রতিদিনের ডেস্ক
আফ্রিকান ফুটবলের পরাশক্তি হয়ে উঠেছে মরক্কো। মহাদেশটির প্রথম দেশ হিসেবে তারা সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল। সর্বশেষ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের (আফকন) শিরোপাও জিতেছে আশরাফ হাকিমির দল, তবে তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়া দলটির বেশিরভাগই মরক্কোর বাইরে জন্মেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে মোহাম্মদ ওয়াহবির দল। এরপর প্রতিভাবান এই স্কোয়াডের চমকপ্রদ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের চলমান ২৩তম আসরের জন্য ডাক পাওয়া ২৬ ফুটবলারের মধ্যে মাত্র সাতজন জন্ম হয়েছে মরক্কোতে। বাকি ১৯ জনই বাইরে জন্মেছেন, মানে দ্বৈত নাগরিক। সাধারণত ইউরোপীয় দেশগুলোয় অভিবাসী খেলোয়াড়দের বড় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যেখানে আবার আধিপত্য থাকে আফ্রিকান বিভিন্ন দেশের। সেদিক থেকে মরক্কো বেশ ব্যতিক্রম। নিজ দেশ থেকে অভিবাসী হওয়া ফুটবলাররা আবার ফুটবলের তাগিদে শেকড়ে ফেরার নজির তৈরি করেছেন। ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে মরক্কোতে জন্ম নেওয়া সাত ফুটবলার হচ্ছেন– আহমেদ রেদা তাগনাউতি, মারওয়ান সা’দান, ইউসুফ বেলাম্মারি, আজেদ্দিন উনাহি, সুফিয়ান রহিমি, আমিন এসবাই এবং আয়ুব এল কাবি। মজার বিষয় হলো– অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি মরক্কোর সেই ছয় খেলোয়াড়ের একজন, যাদের জন্ম স্পেনে। জন্মসূত্রে মরক্কোর স্প্যানিশ ফুটবলাররা হচ্ছেন– রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় ব্রাহিম দিয়াজ, ব্রাজিল ম্যাচে গোল করা ইসমাইল সাইবারির জন্মও স্পেনে। একইভাবে ডিফেন্ডার চাদি রিয়াদও ওই দেশে জন্মেছেন। ফ্রান্স ও উত্তর আফ্রিকার সম্পর্কটা ঐতিহাসিক, ফলে মরক্কো দলে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় থাকাটা বেশি অবাক করে না। এমন ফুটবলারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য– ইসা দিয়োপ, আইয়ুব বুয়াদ্দি ও গেসিম ইয়াসিন। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসও মরক্কোকে দিয়েছে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সোফিয়ান আমরাবাত, আনাস সালাহ-এদ্দিন এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফুলব্যাক নুসাইর মাজরাউই ডাচ ভূখণ্ডে জন্মেছেন। প্রতিভাবান উইঙ্গার বিলাল এল খানুস, চেমসদিন তালবি ও জাকারিয়া এল ওয়াহদির জন্ম বেলজিয়ামে। মরক্কোর অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর জন্ম কানাডার মন্ট্রিয়লে। তবে মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে ফিরে আসেন বাবা-মায়ের দেশ মরক্কোতে। অবশ্য কেবল খেলোয়াড়রাই নন, মরক্কো জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির জন্মও ব্রাসেলসে। মরক্কোর শিকড় থাকলেও বড় হওয়ার সময় তার পরিবার বেলজিয়ামকেই সমর্থন করত। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতেও তিনি বেলজিয়ামের ক্লাবের সঙ্গে কাজ করেছেন।

