প্রতিদিনের ডেস্ক:
বিশ্বকাপের মঞ্চে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আবারও ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু তার তিন গোল নয়, বরং আরেক ক্রীড়া মহাতারকা রাফায়েল নাদাল।৩-০ গোলের জয়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, ৩৮ বছর বয়সেও কীভাবে এতটা ক্ষুধার্ত ও অনুপ্রাণিত থাকেন তিনি? জবাবে মেসি বললেন, তিনি বর্তমানে নাদালের ডকুমেন্টারি সিরিজ দেখছেন এবং স্প্যানিশ টেনিস কিংবদন্তির সঙ্গে নিজের অনেক মিল খুঁজে পান। মেসির ভাষায়, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবল ভালোবাসি। যখন নিজেকে ভালো অনুভব করি, তখন সবকিছু উজাড় করে দিই। এখন আমরা রাফা নাদালের সিরিজ দেখছি। আমি মনে করি, এই দিক থেকে আমরা অনেকটাই একই রকম। আমরা সব সময় নিজেদের সেরাটা দিতে চাই।’এই মন্তব্যের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ক্রীড়াঙ্গনে। কারণ, দুজনই নিজেদের খেলায় দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকা বিরল ক্রীড়াবিদ। একদিকে ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী নাদাল, অন্যদিকে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি। দুজনের ক্যারিয়ারই গড়ে উঠেছে অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়, আত্মনিবেদন এবং কখনো হার না মানার মানসিকতার ওপর।
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের রাতে মেসি আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবতে নারাজ আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার মতে, এমন সব কীর্তি কেবল পরিসংখ্যান; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলাটিকে উপভোগ করা এবং দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়া।
এক কিংবদন্তি যখন আরেক কিংবদন্তিকে নিজের অনুপ্রেরণা বলে স্বীকার করেন। তখন সেটি শুধু প্রশংসা নয়, সেটি ক্রীড়াজগতের দুই মহাতারকার মানসিকতার এক অনন্য মিলনের গল্প।

