নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীসহ দুইজনকে গুরুতর জখম করার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ ও এফআইআর রেকর্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, চাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সাইদুল ইসলাম যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় টিপু (২৭), অপু (২৫), পল্টু (৪৫) ও মাহাবুব (৫০)-কে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ধারালো হাসুয়া নিয়ে বাদীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় বাদীর বোন নাছিমা বেগম ওরফে নাছি প্রতিবাদ করলে আসামি অপু লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথার খুলি ভেঙে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, আহত নাছিমার খুলির হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। বাদীর পিতা হোসেন আলী এগিয়ে এলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মাথায় সেলাই দিতে হয়। পরে হামলাকারীরা আহতদের এলোপাতাড়ি মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাছিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা খুলির ভাঙা অংশ অপসারণ করে সংরক্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে বলে জানান। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগীরা। এদিকে গত ১৮ জুন তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল মামলার নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। আদালত মামলার আবেদনটি অফিসার ইনচার্জ, কোতয়ালী থানা, যশোরকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং ৭ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা রুজু করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

