৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার সৎ বাবা ও স্বামী পুলিশ হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর
যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের মোহনপুর গ্রামের বাবার নির্মাণাধীন বাড়ীর একটি ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহতের মুখ ও কানে রক্তের দাগ থাকায় তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি। এ ঘটনায় নিহতের সৎ বাবা ও স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। নিহত ময়না পৌর এলাকার মোহনপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে। জানা যায়, ৮ বছর আগে উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের সাথে তাসলিমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এই দম্পতির চার বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামীর সাথে কলহের জেরে কয়েকদিন আগে ময়না বাবার বাড়ি চলে আসেন। নিহতের বোন মারুফা খাতুন জানান, তার বোনের স্বামী হেলাল উদ্দিন এর আগেও তিনি দুটি বিয়ে করেছিলেন। তারা জানতেন না। প্রায়ই তিনি ময়নাকে নির্যাতন করতেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মারুফা বলেন, রাতে মা ঘরে এবং ময়না বারান্দায় ঘুমান। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে মা দেখেন তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। ময়নাকে অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তার ভাই সাইফুল্লাহকে ডাকার পর দরজা খুলে দেয়। কিন্তু ময়নাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর মা ময়লা ফেলতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতরে ময়নাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। হেলাল উদ্দিন সম্প্রতি আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। সেই স্ত্রীকে ঘরে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে ময়নাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবী। রাতের কোন এক সময় মোবাইল ফোনে ডেকে ময়নাকে ঘর থেকে বের করে নেওয়া হয়। এ সময় মায়ের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো হয়েছিল। এরপর নির্মাণাধীন ঘরে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তাদের দাবী। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, নিহতের শরীরের আলামত দেখে সন্দেহ রয়েছে। তবে, ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর ঘটনার সত্যতা উন্মোচিত হবে। নিহতের ঘটনায় তার স্বামী ও সৎবাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়