৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জার্সির রঙ বদলায়, আবেগ বদলায় না

প্রতিদিনের ডেস্ক:
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়ার পর পৃথিবীর কোটি মানুষের মতো বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখগুলোর জীবনেও বদলে গেছে। কিছু অভ্যাস, কিছু অপেক্ষা, কিছু অনুভব। মাঠ, খেলা, পরিচয় আলাদা তবু বিশ্বকাপ এলে সবাই যেন ফিরে যান দর্শকের আসনে। কেউ হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ ব্রাজিলের, কেউ আবার ফুটবলকে দেখেন শৈশব, স্মৃতি আর প্রিয় মানুষদের ফিরে পাওয়ার এক উপলক্ষ হিসেবে।
বাংলাদেশের তারকা শুটার আরমিন আশার কাছে বিশ্বকাপ মানেই আর্জেন্টিনা। আর সেই ভালোবাসার কেন্দ্রে আছেন লিওনেল মেসি। বহু বছর ধরেই মেসির ফুটবল তাকে টানে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় আর্জেন্টিনার সমর্থক। মেসির খেলার মধ্যে একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। মাঠে ওর শান্ত থাকা, দলকে এগিয়ে নেওয়া এসব আমার খুব ভালো লাগে। বিশ্বকাপ এলে আমার চোখ সব সময় আর্জেন্টিনার দিকেই থাকে।’বাংলাদেশের সাবেক তারকা সাঁতারু মাহফুজা রহমান তানিয়ার বিশ্বকাপ ভালোবাসার গল্পে আছে সময়ের পরিবর্তন, বয়সের পরিবর্তন, কিন্তু আবেগের ভেতরে একই রকম টান। তিনি বললেন, ‘সব সময় আর্জেন্টিনার সাপোর্টার আমি। তবে এইবার আমি এতটা ক্রেজি না, এর জন্য চুপচাপ বসে আছি। আসলে ছোটবেলা থেকে ম্যারাডোনার জন্যই আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করতাম। পরে মেসির ভক্ত হয়ে যাই। এখন আলভারেজের খেলাও খুব ভালো লাগে। তবে শুধু আর্জেন্টিনা না, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর ফ্রান্সের এমবাপ্পের খেলাও আমি খুব উপভোগ করি।’বাংলাদেশের তারকা ভারোত্তোলক ফাহিমা আক্তার ময়নার পছন্দের দল পর্তুগাল। প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সংক্ষিপ্ত উত্তরেই তিনি যেন বলে দেন নিজের অনুভূতির সবটা—‘পর্তুগাল আর রোনালদো।’জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া সাঁতারু নিবেদিতা দাসের পছন্দ আর্জেন্টিনা। তার কাছেও বিশ্বকাপ মানেই মেসি।বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর পছন্দ অবশ্য অন্যদিকে। মাঠে বহু বছর কাটানো এই ফুটবলারের হৃদয় এখনো ব্রাজিলের সঙ্গেই বাঁধা। তার কাছে ফুটবল মানেই ছন্দ, আক্রমণ আর আনন্দের নাম ব্রাজিল।বিশ্বকাপের গল্প সব সময় আনন্দের নয়। আনন্দের মাঝেও কখনো কখনো থেকে যায় গভীর শূন্যতা। কিছু নাম ফিরে আসে স্মৃতিতে, যাদের আর পাশে পাওয়া যায় না।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক তারকা ফুটবলার তানভীর চৌধুরীর পরিবারেও বিশ্বকাপ আসে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে আসে একরাশ হতাশা আর কষ্ট।তানভীরের স্ত্রী আলো চৌধুরী, দুই মেয়ে তানবিতা ও তাজবিতা—তিনজনই ব্রাজিলের সমর্থক। তানভীরও ছিলেন ব্রাজিলের সমর্থক। তার প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো। তবে মেসির খেলাও তানভীর খুব পছন্দ করতেন।আলো চৌধুরী স্মৃতি হাতড়ে বললেন, ‘তানভীর যখন বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখতে চাইত, আমি মন খারাপ করতাম। তাই ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে আবার আমার কাছে চলে আসত। আমরা একসঙ্গে খেলা দেখতাম।’
আলোর কথা, ‘এখন খেলা দেখার সময় সবচেয়ে বেশি তানভীরকেই মিস করি। আগে খেলা মানেই ছিল ওর সঙ্গে বসা, ওর উত্তেজনা দেখা, গোল হলে ওর চিৎকার শোনা। এখন টিভি চলে, খেলা হয়, কিন্তু মনে হয় কিছু একটা নেই। মেয়েরাও বাবাকে খোঁজে।’বিশ্বকাপ ফুটবল কারও প্রিয় খেলোয়াড়ের গল্প। কারও কাছে শৈশবের স্মৃতি। কারও আবার হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের জন্য বেদনা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়