প্রতিদিনের ডেস্ক:
ভারতে বিদেশি অর্থায়ন গ্রহণকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) জন্য নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, কোথায় কাজ করা হবে এবং অর্থ ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।মোদী সরকার ২০১৪ সালের পর থেকে হাজার হাজার এনজিওর বিদেশি অর্থ গ্রহণের অনুমতি স্থগিত বা বাতিল করেছে। সরকারের অভিযোগ, কিছু সংস্থা বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।এই সপ্তাহে সরকার বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-এর সংশোধিত বিধিমালা জারি করেছে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফসিআরএ নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী সংস্থাগুলোকে অনুমোদিত তালিকা থেকে তাদের কার্যক্রমের ধরন নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণ।এছাড়া সংস্থাগুলোকে তারা কোন এলাকায় কাজ করবে, সেটিও আগেই উল্লেখ করতে হবে।বিদেশি অর্থ গ্রহণকারী এনজিওগুলোকে এখন তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বার্ষিক প্রতিবেদনে বিদেশি অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের বিবরণ এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে হবে।নতুন বিধিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো সংস্থার প্রধান দায়িত্বশীল পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণত সেই সংস্থা বিদেশি অর্থ গ্রহণের যোগ্য হবে না।ভারত সরকার গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এফসিআরএ আইন কঠোর করেছে। ২০২০ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে এক এনজিও থেকে অন্য এনজিওতে বিদেশি অর্থ স্থানান্তর নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়।এদিকে বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়াতে নতুন একটি বিলও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এতে তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহির পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া সংগঠনগুলোর ওপর ক্রমেই বেশি নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে, যার ফলে এসব সংস্থার পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
