বন্যায় ১২ জেলায় ২৮ হাজার হেক্টরের বেশি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

প্রতিদিনের ডেস্ক:
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমির ফসল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া ফসলি জমির মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, আমন বীজতলা, পাট, গ্রীষ্মকালীন সবজি, মরিচ, আদা, হলুদ, ফলসহ আরও বেশ কিছু ফসল।কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য বলছে, বৃষ্টি আর ঢলে শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত ১২ জেলায় ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টরের বেশি ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ওইসব এলাকায় আরও প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমির ফসল জলামগ্ন অবস্থায় দণ্ডায়মান রয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং মেহেরপুর।অন্যদিকে এ অবস্থায় আবারও আজ (রোববার) দেশের ছয় বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিভাগগুলো হলো, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট।এদিকে দেশের আসন্ন কৃষিজ উৎপাদনের এ পরিস্থিতি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কৃষি ছাড়াও এ অবস্থায় মৎস্যখাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। চট্টগ্রামে বিভাগসহ বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও চিংড়ির ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি এবং ৩২০টি চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এদিকে যেসব এলাকায় বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব এলাকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।পাশাপাশি শনিবার সকালে কুমিল্লায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, তালিকা করার পর সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।তবে তিনি এ বন্যায় খুব বেশি ক্ষতির শঙ্কা করছেন না। তিনি বলেন, এখন বোরো ধান কাটা শেষ। তারপরও যে আবার চারা লাগানো শুরু হয়েছে, সেটির বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যে চারাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে সেগুলো যদি দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে তাহলে পঁচে যাবে। আমরা ধরে নিতে পারি যে চারা রোপণ হয়েছে তার ২৫ শতাংশ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। যে কারণে আমরা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যেখানে বীজ কিংবা চারা সংকট দেখা দিবে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিয়েছি।তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ধানের জমি ডুবে গেছে এবং তা পুনরায় রোপণ করতে কী পরিমাণ চারা লাগবে-এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। উঁচু এলাকাতে চারা উৎপাদনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। হয়তো কৃষকের ঘরে বীজ ধান আর নাও থাকতে পারে, তাই আমরা চারাটি সরবরাহ করার চেষ্টা করব।এদিকে কৃষকদের মতে, পানি যদি আরও ৪-৫ দিন স্থায়ী হয়, তবে আউশ ও সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়