প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকে ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কী কারণে অভিনয়ে আর ফিরতে চান না হেমা? বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ তিনি। ১৯৬৩ সালে দক্ষিণী ছবির হাত ধরে বড়পর্দায় কেরিয়ার শুরু করেছিলেন হেমা মালিনী। প্রথম ছবির মুক্তির পর কাজের সন্ধানে এক দক্ষিণী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নায়িকা। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তামিল পরিচালক সিভি শ্রীধর তাঁর একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন নায়িকাকে। কিন্তু পরিচালক নিজেই সেই কথা রাখেননি। কিন্তু সেই হেমাই এক দিন তারকা হয়েছিলেন বলিউডে। প্রায় ছ’দশক ধরে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকে ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কী কারণে অভিনয়ে আর ফিরতে চান না হেমা?
১৯৬৮ সালে রাজ কপূরের পরিচালনায় ‘সপনো কা সওদাগর’ ছবির মাধ্যমে বলিপাড়ায় পদাপর্ণ হেমার। সেই ছবিতে রাজের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। কেরিয়ারের প্রথম ছবি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন হেমা। বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি। কেরিয়ারের গোড়ার দিকে হেমার কয়েকটি ছবি ব্যবসা করতে পারেনি। ১৯৭০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘জনি মেরা নাম’ ছবিটি। এই ছবিই তাঁর কেরিয়ার রাতারাতি বদলে দেয়। সত্তরের দশক থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন হেমা। যে তামিল পরিচালক হেমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই পরিচালকও পরে হেমার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। কিন্তু কোনও দক্ষিণী ছবিতে নয়। হিন্দি ছবি পরিচালনার সময় হেমাকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শ্রীধর। ১৯৭৩ সালে ‘গেহরি চাল’ নামে একটি অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার ছবিও করেন হেমা। তার পর ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে দেখা তার পর প্রেম। ‘শোলে’-র মতো ছবিতে জুটিতে দেখা যায় হেমা ও ধর্মেন্দ্রকে। যৌবনে জিতেন্দ্র থেকে ধর্মেন্দ্র— অনেকের সঙ্গে সফল ছবি উপহার দেন। তবে কেরিয়ারের শেষের দিকে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘বাগবান’ ছবিটিও অন্যতম ‘হিট’ হেমার কেরিয়ারের।
যদিও এখন অভিনয় থেকে অনেক দূরে হেমা। এখন তাঁর কথায়, ‘‘আমি যখন কাজ করি সেটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যুগ। আমি বলব, সেটি ছিল সিনেমার স্বর্ণযুগ এবং আমি সেই যাত্রার অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। সেই সময়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নারীকেন্দ্রিক ছবি। আমি সৌভাগ্যক্রমে ‘সীতা অউর গীতা’, এমনকি আমার প্রথম ছবি ‘সপনো কা সৌদাগর’, ‘খুশবু’ এবং আরও অনেক ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম।’’
হেমা বলেছেন, ‘‘আজ যখন আমি পিছনে ফিরে তাকাই, তখন বুঝতে পারি যে আমি প্রায় ২০০টি ছবিতে কাজ করেছি! বেশিরভাগ প্রযোজকই আমাকে তাঁদের ছবিতে বার বার নিতেন। সেই দিনগুলোতে প্রতিটি ছবিতে পাঁচ-ছ’টি গান থাকত এবং প্রযোজকদের জন্য হিট গান থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’’ শেষে অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘‘এখন সিনেমা তৈরিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি এখন কেন কাজ করছি না। কিন্তু আজকাল যে ভাবে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন।’’ তাঁর শেষ ছবি মুক্তি পায় ২০২০ সালে। ছবির নাম ছিল ‘মির্চ মশালা’।
