উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচি কার্ড বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদের জেরে আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। দুস্থ ও হতদরিদ্রের পরিবর্তে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় তদন্ত চেয়ে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে লিখিত আবেদন জানানোর কারনে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ। উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী গ্রামের মোঃ আহাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির দায়েরকৃত মামলায় শনিবার তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আব্দুল হামিদ একই গ্রামের মৃত জনাব আলী গাজীর ছেলে। আব্দুল হামিদের স্ত্রী মনোয়ারা হামিদ জানান আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্বচ্ছল ব্যক্তি সনিজের আত্বীয়-স্বজনকে সুবিধাভোগীর তালিকাভুক্ত করেছে তাদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম। এঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকার ৮৫টি দুস্থ, হতদরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবার তার স্বামীর সহায়তা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এসবের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ মার্চ তার স্বামী খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে নিজে বাদি হয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে ত্রুটিপুর্ন তালিকার বিষয়ে আবারও তদন্তের দাবি জানান। এসব ঘটনার জেরে ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে তার নিজস্ব লোক দিয়ে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় জড়িয়ে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। গুমানতলী গ্রামের পরিতোষ মন্ডল জানায় তার স্ত্রী সঙ্গীতা মন্ডল ত্রুটিপুর্ন তালিকার বিরুদ্ধে সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে। তাদের সহযোগীতা করার অপরাধে সম্পুর্ন নির্দোষ আব্দুল হামিদকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদি মোঃ আহাদুজ্জামান বলেন, ঘর দেয়ার নামে দেড় বছর আগে তার থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়ায় আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এর আগে তিনি কোথাও লিখিত অভিযোগ করেননি বলেও স্বীকার করেন। একইভাবে ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম জানান আত্বীয়-স্বজন হিসেবে নয়, বরং আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় তালিকা তৈরী হয়েছে। কার্ড স্বল্প থাকায় সব দুস্থকে তালিকায় জায়গা দেয়া যায়নি- উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের সাথে সুবিধাভোগীর তালিকার বিষয়টি জড়িত নয়। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে আব্দুল হামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তারা অবগত নয়। তবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আগামী চার এপ্রিল সুবিধাভোগীসহ অভিযোগকারীদের উপস্থিতিতে তদন্তে উপস্থিত হতে সকলকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।

