মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে দীর্ঘসময় জটিলতা চলছে। বারবার উদ্যোগ নিলেও কার্যকর কোনো সফলতা দেখা যাচ্ছে না। নতুন করে প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়া যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে করে অপেক্ষমাণ কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সময় বৃদ্ধি না হলে অপেক্ষমাণ কর্মীর মালয়েশিয়া যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বিমানের টিকেটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেট চক্র মালয়েশিয়ার ৩০ হাজার টাকার ওয়ানওয়ে টিকেটের দাম এখন ৯৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মোহাম্মদ হাশিম জানিয়েছেন, সরকারিভাবে যারা মালয়েশিয়ার কর্মী ভিসা পেয়েছেন, তাদের ৩১ মের মধ্যেই সে দেশে যেতে হবে। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না। এমতাবস্থায় কর্মীদের মাঝে শঙ্কা দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। প্রতি বছর লাখ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের জোগান আসছে দেশটি থেকে। কর্মী পাঠাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ২০০৯ সালে বন্ধ হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০১৫ সালে খুললেও তা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে। ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির ‘সিন্ডিকেট’ কর্মী পাঠিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে অভিযোগে ২০১৮ সালে বন্ধ হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরের বছরের ৮ আগস্ট আবার খোলে মালয়েশিয়া। এর আগের মাসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করে মালয় সরকার। এই এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত। পরে আরো ৭৫ বেসরকারি ও একটি সরকারি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দেয় দেশটির সরকার। গত ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদাপত্রের কোটার বিপরীতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা দিয়েছে দেশটি। যারা ভিসা পেয়েছেন, তাদের আগামী শুক্রবারের মধ্যে যেতে হবে। ঝুলে যাওয়া কর্মীদের বিষয়ে সরকার উদ্যোগী হলে সমাধান হতে পারে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত জনশক্তি রপ্তানি। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখনো জনশক্তি রপ্তানির প্রধান টার্গেট। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির বাজার দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণ সহজ রাখতে সরকার নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পড়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে সরকার। সিন্ডিকেটের কারণে কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে ৪ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। মালয়েশিয়া যেতে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। যদিও সপ্তাহ দুয়েক ধরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় লাগাতার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাচ্ছে, মালয়েশিয়া যেতে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এর বেশি টাকা কাউকে না দিতে সতর্ক করছে কর্মীদের। তবে এ সতর্কবার্তা শুধুই কাগুজে। এসব কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নানারকম হয়রানি শুরু হয়, যা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। মালয়েশিয়ায় আমাদের বিশাল এক শ্রম অভিবাসী কাজ করছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে অবশ্যই আগের ভুলত্রæটি মোকাবিলা করে এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সহনশীল ব্যয়ের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ করাটাই এখন বড় কর্তব্য।
শ্রমবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটুক
আরো দেখুন
মানব পাচারকারী চক্রের ভয়ংকর তৎপরতা
একটু ভালো করে বাঁচার আশায়, একটু বেশি উপার্জনের জন্য অনেকে বিদেশে যেতে চান, প্রয়োজনে অবৈধ পথে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ...
মধ্যবিত্ত শ্রেণি তীব্র সংকটে
দেশের অর্থনীতির চাকা ঠিকমতো চলছে না। নতুন বিনিয়োগ নেই। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। শিল্প ও কৃষি উভয় খাতই ধুঁকছে।অপরিহার্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়ে...

