২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সম্প্রীতি বজায় রাখুন

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গত সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সমগ্র বাংলাদেশ একটি পরিবারের মতো। সরকারের দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা দেওয়া। অধ্যাপক ইউনূস হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে নির্ভয়ে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে এবং যেখানে কোনো মন্দির পাহারা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকতে পারে না। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এর আগে গত ১৩ আগস্ট সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জাতীয় উপাসনালয় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি বলেছিলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি তাঁর সরকারের ওপর আস্থা রাখতে এবং সহযোগিতা করতে বলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি, যেটা একটা পরিবার, এটাই হচ্ছে মূল জিনিস। এই পরিবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা, বিভেদ করার প্রশ্নই আসে না।’ বরাবরই দেখা যায়, দেশে বড় কোনো পরিবর্তনের পর কিছু ধর্মান্ধ ও সুযোগসন্ধানী মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনটা দেখা গিয়েছিল ২০০১ সালেও। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে এই ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, সাঁওতালসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী একসঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে এসেছে। সব স্রোত এক ধারায় এসে মিলিত হয়ে বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। বাঙালি সংস্কৃতির মূলকথাই তো অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব, উন্নতি, মর্যাদা ও শক্তির অন্যতম অবলম্বন বাঙালি সংস্কৃতিপ্রসূত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি।
সমাজকে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজন সম্মিলিত নাগরিক প্রয়াস। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথাই উচ্চারণ করেছেন। আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি, দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। নিতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আবহমান বাঙালির জীবনবোধকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অথচ একটি চিহ্নিত অপশক্তি সব সময় এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে। আমরা মনে করি, প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য ও অঙ্গীকার দেশে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষে-মানুষে সব বিভেদ ও সংকীর্ণতা চিরতরে দূর হয়ে যাক। শক্তিশালী হোক মিলন ও সম্প্রীতির ধারা। সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির জয় হোক। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত হোক। নির্ভয়ে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করুক। নিশ্চিত হোক সব মানুষের সমান অধিকার। গড়ে উঠুক বাংলাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতির সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়