উজানে থাকা জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র তিন সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। অথচ ২২ আগস্ট নদীটির পানি বিপৎসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর পরিস্থিতি এখনো অনেক খারাপ। ভারি বৃষ্টি ও প্রবল জোয়ারের কারণে বাগেরহাটসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতেও পানি বেড়েছে। এদিকে পানি যত কমছে, ততই ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত। বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ভেঙেচুরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মাটির দেয়ালের ঘরসহ বহু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আশ্রয়শিবির থেকে মানুষ যে নিজের ভিটামাটিতে ফিরে যাবে, তেমন অবস্থাও নেই। ফলে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে অনেক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক তথ্য পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় ছয় হাজার ৫৪২ কিলোমিটার রাস্তা এবং এক হাজার ৬৬টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদি পশু ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১১টি জেলার হাজার হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বাগেরহাট জেলার কেবল রামপাল উপজেলায়ই আড়াই হাজার চিংড়িঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ধানসহ বিভিন্ন ফসল ও শাক-সবজির ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদেরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বন্যা উপদ্রুত জনগোষ্ঠী এক চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুবই কষ্টকর হবে। অন্যদিকে জনজীবন স্বাভাবিক করার জন্য রাস্তাঘাটসহ ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। পানি নামতে শুরু করলেও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনো চরমে। ফলে ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পেটের পীড়া। দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দিকাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগ। বাড়ছে চর্মরোগ। সঠিকভাবে মোকাবেলা করা না গেলে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, উপদ্রুত এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকসহ পর্যাপ্ত সংখ্যায় মেডিক্যাল টিমের কাজ করতে হবে। যথেষ্ট পরিমাণে ফিল্ড হসপিটাল গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় আমাদের তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকগুলোতে আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। দ্রুততম সময়ে নদীগুলো নাব্য করার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে উজানের ঢল ও বৃষ্টির পানি নদী দিয়ে সহজে নামতে পারে। তা না হলে এমন বন্যা প্রতিবছরই আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন বন্যা উপদ্রুতদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সহায়তা করা।
কমছে পানি, ভেসে উঠছে ক্ষত
Next article
আরো দেখুন
অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। মানুষ আশা করেছিল, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।...
মণিরামপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন গাজী এনামুল হক এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এমপি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এক দিনমজুর কৃষকের ধান কেটে দিলেন। রোববার ফজরের নামাজ বাদ...

