রেজাউল করিম,লোহাগড়া
গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর মল্লিকপুর গ্রামে আপন দুই ভাই মিরান শেখ ও জিয়ারুল শেখকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং অপর ভাই ইরান শেখসহ ৫ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহতদের উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। নিহত মিরান শেখ(৪৫) ও জিয়ারুল শেখ(৪০) চর-মল্লিকপুর গ্রামের মৃত ছামাদ শেখের ছেলে।নিহতদের মরদেহ লোহাগড়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে। এঘটনায় দুপুরে নিহতদের লোকজন খাঁন মাহামুদুর রহমান ও ভিপি সবুজের বাড়ী ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
কবর পেয়ে লোহাগড়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রনে আন্।ে এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর মল্লিকপুর গ্রামের আধিপত্য ও সামাজিক দলাদলিকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খাঁন মাহমুদ রহমান ও বিএনপি নেতা এটিএম শফিকুল ইসলাম(ভিপি সবুজ) পক্ষের লোকজনের সাথে একই গ্রামের জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস রহমান ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুরাদ শেখ পক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মুরাদ শেখের আপন ভাই মিরান শেখ ও জিয়ারুল শেখ ও ইরান শেখ বাড়ী থেকে বের হয়ে গ্রামের কালাম হুজুরের মুদি দোকানের কাছে পৌচ্ছালে খাঁন মাহমুদ পক্ষের ৪০/৫০ জন লোক জোটবদ্ধ হয়ে রামদা, ছ্যানদা, বল্লম, কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে ঘিরে ফেলে এলাপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে মুরাদ শেখের লোকজন ঘটনাস্থলে যেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মিরান শেখ ও জিয়ারুল শেখকে মৃত ঘোষনা করেন। আহত ইরান শেখ, ওহিদ খান, আরিফ শেখ, শাহরিয়ার ও শফিকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দ্বায়িত্বরত ডাক্তার মারুফা খানম জানান, মিরান ও জিয়ারুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা ও খুলনায় রেফার্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবুল মোল্যা জানান, গ্রামের দলাদলি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের লোকজন সংর্ঘষের প্রস্তুতি নেয়।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সেনা সদস্যরা এবং থানা পুলিশ উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলে শান্ত করেন। বুধবার সকালে উভয় পক্ষের মাতুব্বরদের নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলার বজায় রাখার জন্য আলোচনা করছিলাম। এর মধ্যে খবর আসে কালাম হুজুরের দোকানের কাছে মিরান, জিয়ারুল ও ইরানকে কুপিয়ে আহত করেছে মাহমুদ খানের লোকজন। দ্রুত ঘটনাস্থলে য়েয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে চরমল্লিকপুর গ্রামের মাতুব্বর ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস রহমান বলেন, সম্প্রতি উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খাঁন মাহমুদুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে গ্রাম্য দল ভারী করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম, অরাজকতা ও সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করেছে। তার নেতৃত্বে গ্রামের বিএনপি পরিবারের নিরিহ দুইজন লোককে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং ৫ জনকে আহত করেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং দল থেকে তার বহিস্কারের দাবি জানায়। অপরদিকে খানঁ মাহমুদুর রহমান ও ভিপি সবুজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম জানান, মাহমুদ খান আওয়ামী লীগের লোকজনকে সাথে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত পরিবারের লোকদের হত্যা করেছে, এর জন্য তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের সুপারিশ করা হবে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। বর্তমানে চর-মল্লিকপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

