সুন্দর সাহা
যশোরের বেনাপোল সীমান্তের আলোচিত রুট হচ্ছে পুটখালী এবং রঘুনাথপুর। পুটখালী এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নে মাদক চোরাচালানের অবৈধ পকেট ঘাট রয়েছে অন্ততঃ ১৫টি। যার মধ্যে আবার সমতল ঘাটও আছে। পুটখালীর সাতটি এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুরসহ অবৈধ সীমান্তঘাট রয়েছে ৮টি। ফেন্সিডিলসহ মাদক পাচার। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু পুটখালী এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নে মাদক চোরাচালানের অবৈধ ১৫টি পকেট ঘাট দিয়ে বন্ধ হয় না ফেনসিডিলসহ মাদক পাচার। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আলোচিত পুটখালী এবং রঘুনাথপুরসহ এসব ঘাট দিয়ে বিপুল উদ্যমে শুরু হয়েছে ফেনসিডিলসহ মাদক পাচার। পুটখালীর বিভিন্ন সীমান্তে সক্রিয় রয়েছে আলোচিত ওলিয়ার সিণ্ডিকেট। এই চক্রে আরও আছে বিতর্কিত শফিয়ার ওরফে শফি, আলোচিত মাতাল মফিজুর, ফেন্সি সম্রাট মুকুল ও হাকিম, সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা তায়েবুর মুন্সি, রহিম, তালেব ও হাফিজুরসহ একদল সক্রিয় মাদক পাচারকারী। সরকারের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে পুটখালী অবৈধ সীমান্তের স্রষ্টা বহু অপকর্মের হোতার পুত্র কিলার ওলিয়ার রহমান ওলিসহ চিহ্নিত অপরাধীরা ফেন্সিসহ মাদক পাচারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ফেন্সি পাচারকারী সিণ্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে বলে সীমান্তবাসীর অভিযোগ।
বর্তমানে আলোচিত পুটখালী ইউনয়নের সব ঘাটের মালিক বনে গেছে বিতর্কিত ওলিয়ার রহমান ওলি। মাদক আর সোনা পাচার সিণ্ডিকেটের হোতা রাতারাতি কোটিপতি হতে বেছে নিয়েছেন অপরাধ কর্মকাণ্ডের এই পথ। মাদক এবং সোনা পাচারের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষকে হত্যা করে এক সময় কিলার ওলিয়ারসহ শফিয়ার ওরফে শফি, আলোচিত মাতাল মফিজুর, ফেন্সি সম্রাট মুকুল ও হাকিম, সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা তায়েবুর মুন্সি, রহিম, তালেব ও হাফিজুর গং এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়। এরপর ফেন্সি ও সোনা পাচারকারী ঘ্যানা-হাবিবের কর্মচারি হয়ে পুটখালী ফেরে এই ওলিয়ার গং। পরে রমজানসহ চিহ্নিত চক্রের সোনা এবং ফেনসিডিল পাচারে সহযোগিতা শুরু করে। ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণ অভ্যূত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আফিলের তল্পিবাহকরা বনে গেছে বিএনপি নেতা-কর্মী। ফেন্সি-সোনার আলোচিত সেই কামলা ওলিয়ার অদৃশ্য শক্তি বলে এখন বনে গেছে পুটখালীর সব সীমান্ত ঘাটের মালিক। পুটখালী সীমান্তের শীর্ষ চোরাচালানী ওলিয়ার ওরফে ওলির নেতৃত্বে বিভিন্ন সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ। যে সব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাচার হয় ফেন্সিডিল, মদ ও গাজার চালান। কখনও রফা করে আবার কখনও গোপনে চলছে এই পাচার প্রক্রিয়া। সীমান্ত গলিয়ে প্রতিরাতে অন্ততঃ ১০ হাজার বোতল ফেনসিডিল ওলির সিন্ডিকেটে জমা পড়ে। ফেনসিডিলসহ মাদকের চালান থেকেই কুখ্যাত ওলিয়ালের পকেটে যায় অন্ততঃ ৫ লাখ টাকা। শুধু ফেনসিডিলে বোতল প্রতি ৩০টাকা হিস্যা নেয় সিণ্ডিকেট প্রধান ওলি। যাতে তার পকেটে যায় ৩ লাখ টাকা। এছাড়া একশ বোতল ফেনসিডিলের জন্য বিতর্কিত শফিয়ার ওরফে শফি, আলোচিত মাতাল মফিজুর, ফেন্সি সম্রাট মুকুল ও হাকিম, সিণ্ডিকেটের অন্যতম হোতা তায়েবুর মুন্সি, রহিম, তালেব ও হাফিজুরের সিণ্ডিকেটে জমা দিতে হয় আরও ৩০ হাজার টাকা হারে। যাতে ওলির এসব পাইকপেয়াদাদের পকেটে যায় আরও ৩ লাখ টাকা। অন্যান্য মাদকের জন্য রয়েছে আলাদা-আলাদা রেট। অর্থাৎ ফেনসিডিলের বোতল শুধু ওলি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের দিতে হয় ৬০ টাকা হারে। ইতিপূর্বে বিজিবি এবং পুলিশের অভিযানে একের পর এক মাদকের চালান আটক হলেও বর্তমানে সেই অভিযান আর চোখে পড়ছে না বলে সীমান্তবাসীর অভিযোগ। আর এ কারনেই থেমে নেই ওলিয়ার সিণ্ডিকেটের মাদক পাচার। একই ভাবে থেমে নেই সীমান্তের অপ্রতিরোধ্য ফেন্সি সম্রাট বাদশা মল্লিক এবং মাদক সম্রাট আশানুর ও কুখ্যাত মিন্টু গং। ফেনসিডিল ও অস্ত্রসহ মাদক পাচার রাজ্যের এই সম্রাটদের কেউ রুখতে পারছে না। দেড় থেকে ৫ ডজন মামলার আসামি হয়েও এরা রয়েছে প্রকাশ্যে। তাদের অবৈধ ব্যবসাও চলে অনেকটা প্রকাশ্যে। শার্শা-বেনাপোলের অপরাধ জগতের তিন সম্রাটের সাথে বেজায় সখ্যতা রয়েছে প্রশাসনের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের। পুলিশের পুরস্কার ঘোষিত মাদক ব্যবসায়ী হলেও এদের টিকিটি স্পর্শ করে না কেউ। সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, যশোর সীমান্তের মাদক সম্রাট হিসেবে বহুল আলোচিত বেনাপোল পোর্ট থানার মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত বাদশা মল্লিক। দুই যুগ ধরে মাদক সম্রাট বাদশার রাজত্ব বেনাপোল সীমান্তজুড়ে। বড় বড় মাদক ও অস্ত্রের চালান তার হাত দিয়ে প্রবেশ করে দেশের অভ্যন্তরে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় একজন মাদক সম্রাট হলেও সে সব সময় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সব সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আধিপত্য সমান। তবে এত ভয়ংকর একজন মাদক সম্রাট প্রকাশ্যে রাজত্ব করলেও যেন আইনের লোকের কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ, গত ১৫ বছর বাদশা ছিল কারো অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যম আর শীর্ষ এক জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার হাতিয়ার। বেনাপোল পোর্ট থানার ঘিবা সীমান্ত এলাকা থেকে ১১টি পিস্তল, ২২টি ম্যাগাজিন, ৫০ রাউন্ড গুলি এবং ১৪ কেজি গাঁজাসহ তিন অস্ত্র চোরাকারবারিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং গাঁজা ভারতের বনগাঁ থানার ভিড়া গ্রামের চোরাকারবারি কোরবান আলী ও লাল্টু মিয়ার কাছ থেকে তারা নিয়ে এসেছে। এগুলো বাংলাদেশি মাদক সম্রাট বেনাপোলের নারায়ণপুর গ্রামের বাদশা মল্লিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তারপরও বাদশার টিকিটি স্পর্শ করা যায়নি সেই নেতার অদৃশ্য ইশারায়। অপতিরোধ্য বাদশা এখনও তার সাম্রাজ্যের রাজা বনে বসে আছে। ক্ষমতার পালা-বদলের পর বিএনপি নেতাদের ছিটে রুটি এবং মুরগীর মাংস খেতে দিয়ে বাদশা নাকি এখন বিএনপির লোক। তাইতো বিএনপির নিবেদিত প্রান(?) বাদশা বর্তমানে আওয়ামী লীগের এমপি নেতাদের ভারতে পার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই বাদশার হেফাজতে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সেইসব নেতা-এমপিদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িও নাকি রয়েছে। এখবর সীমান্ত এলাকাজুড়ে চাউর হলেও কারও যেন এবিষয়ে মাথা ব্যাথা নেই। সীমান্তবাসীর অভিযোগ বেনাপোলের সীমান্ত গুলোতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় থাকলেও ওলিয়ার-বাদশা সিণ্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন অভিযানের খবর মিলছে না। একইভাবে মাদক নির্মূলে বেনাপোল পোর্ট থানায় পুলিশেরও তেমন কোন তৎপর নেই বলে সীমান্তবাসীর অভিযোগ। আর এ কারণেই থেমে নেই বিতর্কিত ওলিয়ার-বাদশাসহ আলোচিত শফি এবং মাতাল মফিজ সিন্ডিেেকটের ফেন্সিডিল ও মদ-গাজা পাচার। স্থানীয়রা বলছেন, কামলা থেকে মালিক বনে যাওয়া মাদক ব্যবসায়ী পুটখালীর ওলিয়ার ও রঘুনাথপুরের বাদশা এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। সীমান্তের লোকজন বলছে তাদের হিস্যা দিয়ে ছাড়া কেউ ফেনসিডিলসহ কোন মালামাল পাচারে করতে পারে না। সীমান্তের সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান ফেন্সি ডিলার ও ঘাট মালিক ওলিয়ারের সাথে বিতর্কিত দুই মেম্বারসহ চিটার রমজান, কুখ্যাত কিলার দুর্ধর্ষ বাদশা, মাদক সম্রাট আশানুর এবং মিন্টুর মাধ্যমে। ওই সূত্র আরও জানায়, ভারতের বস্ গোতম, অপু, আজগার, ছোট্টু, গৌতম, ডাকু, দীপঙ্কর এবং রাজিব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফেন্সিডিলসহ মাদকের চালান আসে পার করে এই চক্র দেশময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। মাফিয়া ডন বস্ গৌতমের ডেরায় টাকা পরিশোধ করলে ফেনসিডিল চালানের ছাড় করার অনুমতি মেলে। ওলিয়ার ও বাদশা সংকেত না দিলে নাকি পেন্সিসহ কোন মাদক মেলে না। বর্তমানে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার কারণে ওলিয়ার ও বাদশার নেতৃত্বাধীণ সিণ্ডিকেটসহ মাদক ব্যবসায়ীরাা বেজায় তৎপর হয়ে উঠেছে।

