২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সফল তাদের হতেই হবে

অনেক ত্যাগের বিনিময়ে, অনেক রক্তের বিনিময়ে দেশ আজ স্বৈরাচারমুক্ত। দেশকে এখন গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর তার ওপরই নির্ভর করবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সাফল্য। এ জন্য রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কিছু সংস্কার করতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এসব সংস্কারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত জনসমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সরকার যাতে নিজেরাই নিজেদের ব্যর্থতার কারণ না হয়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। স্বৈরাচার বিদায় নিলেও ১৫ বছর ধরে তারা দেশে যে জঞ্জাল তৈরি করেছে, তার রেশ রয়ে গেছে। স্বৈরাচারের অনেক দোসর এখনো প্রশাসনে কিংবা সমাজ-রাজনীতির অনেক পর্যায়ে আত্মগোপনে রয়েছে। তারা নানাভাবে জনগণের আন্দোলনের সুফল নস্যাৎ করতে চাইবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইবে। দলের নেতাকর্মীদের এসব বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের কোনো কোনো কার্যক্রম সবার কাছে হয়তো সাফল্য হিসেবে বিবেচিত না-ও হতে পারে, কিন্তু এই সরকারের ব্যর্থতা হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা।’ অতীতে নির্বাচন কমিশনকে একটি ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করা হয়েছিল। জনপ্রশাসনকে তাঁবেদারে পরিণত করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে স্বৈরাচারের অনুগামিতা থেকে দেশ মুক্ত হতে পারবে না। গণতান্ত্রিক, মানবতাবাদী ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ সৃষ্টির সব প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে। আর এসব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার। তারেক রহমান বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত জবাবদিহিমূলক সরকার এবং সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া দরকার।’ তিনি বলেন, জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া উন্নয়ন, গণতন্ত্র কিংবা সংস্কার কোনোটিই টেকসই ও কার্যকর হয় না। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিভিন্ন কমিশন এরই মধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আশা করি, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ সৃষ্টিতে এই সরকার সফল হবেই।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়