নিজস্ব প্রতিবেদক॥
৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কৃষকনেতা সাইফুল্লাহ লস্কর-এর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা জেলার কাটিয়া লস্কর পাড়ার সমাধিস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এ সময় প্রয়াতের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও শপথ পাঠ করা হয়। শপথ পাঠ করান বিএম শামীমুল হক। এরপর সাতক্ষীরা শহীদ আসিফ চত্ত্বরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক নিবিড় কান্তি বিশ্বাস মিঠু, সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম নেতা আসাবুর রহমান, এনডিএফ খুলনা জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক নাজিউর রহমান নজরুল, এনডিএফ যশোর জেলার সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি খুলনা জেলা সভাপতি খাদিজা বেগম, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জাকির হোসেন লস্কর প্রমুখ। পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক বিএম শামীমুল হক। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সাইফুল্লাহ লস্কর সমগ্র জীবন ধরে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণ ও সাতক্ষীরার ক্ষেত্রে ভূমিহীন গরীব কৃষকদের খাস জমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদনে তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই-সংগ্রামের বিকল্প নাই। তখন দেশের কৃষকসহ শ্রমিকশ্রেণি ও জনগণের সমস্যা-সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এখানে কৃষক তার রক্তকে ঘামে পরিণত করে, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, অনাহারে-অর্ধাহারে থেকে জীবন বাজি রেখে ধারদেনার মাধ্যমে উৎপাদন করে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। সার, বীজ, কীটনাশক এবং কৃষিতে আধুনিকায়নের নামে যন্ত্র ও সেচ কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত মূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। যা আজ সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী দেশ। বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষির সমস্যার মূল কারণ সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালাল আমলা মুৎসুদ্দীপুঁজির নির্মম শোষণ-লুণ্ঠণ। সেই সাথে জোতদার-মহাজনী-সামন্তবাদী শোষণ এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকারের স্বৈরাচারী শাসন, অত্যাচার, নিপীড়ন-নির্যাতন। বর্তমানে কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতিদের অনেকেই নিজ নিজ পেশা পরিবর্তন করে জীবন ধারণ এবং টিকে থাকার সংগ্রামে বিপর্যস্ত। গরীব ভূমিহীন গৃহহীন কৃষকের বছরব্যাপি কাজ না থাকায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হয়। শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের জরুরি দাবি-দাওয়া নিয়ে চলমান আন্দোলনকে সর্বাত্মক রূপ দিতে হবে। সাইফুল্লাহ লস্কর-এর রেখে যাওয়া পথে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে কৃষি বিপ্লব তথা জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে আপসহীন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে।

