উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কেয়াতলা নামক সরকারি খালের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাহাঙ্গীর নামের এক মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। উচ্চশক্তিশালী খননযন্ত্র দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি আর প্রায় ১৫-২০টি ট্রাক্টরে করে বহন করে বিক্রি করা হচ্ছে এলাকার ইটভাটাগুলোতে। ফলে খালের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া পিচের রাস্তাটি ভেঙ্গে-চুরে অর্ধেক হয়ে গেছে। ওই রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারীরা। এতে ক্ষুব্দ স্থানীয়রা। জানা যায়- উপজেলার রাজগঞ্জের হরিহরনগর ইউনিয়নে কেয়াতলা খালের পাড় ও পাশের জমির উর্বর মাটি তিনটি উচ্চশক্তিশালী খননযন্ত্র দিয়ে প্রতিদিনই কেটে বিক্রি করছে এনায়েতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর। মাটি বহন করা ট্রাক্টর যাতায়াতের জন্য খালের পাশের সরকারি রাস্তার ঢাল কাটার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি খালের মাটি লুট করে প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও ওই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কেউ সরাসরি প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাচ্ছে না। নাম না বলার শর্তে একজন ট্রাক্টর চালক বলেন- এখান থেকে মাটি নিয়ে পাশের গ্রামের কয়েক ব্যক্তির বাড়িতে ও ইটের ভাটায় পৌঁছে দিচ্ছি। মাটি বহন করার জন্য আমাদের ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে এর বেশি কিছু বলতে পারব না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দুই ব্যক্তি জানান- এই খালের মাটি প্রকাশ্যে কেটে লুট করা হচ্ছে। মাটি লুটকারী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। মাটির গাড়ী বহন করার জন্য সরকারি রাস্তার ঢাল কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ জড়িত ব্যক্তির বিচার দাবি করেছেন তারা। সরকারি খালের ও খালের পাশের জমির মাটি বিক্রি ও রাস্তার ঢাল কাটার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, জাহাঙ্গীর এর সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তিনি বলেছেন জমির মালিকেরা মাটি বিক্রি করছেন। মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন- খালের মাটি বিক্রির ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
