নিজস্ব প্রতিবেদক॥
যশোর জিলাস্কুলের সামনে রিকশা থেকে নামিয়ে মৃত্যুঞ্জয় সাহা (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি চুড়িপট্টির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রিকশাযোগে ষষ্টিতলার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। মুজিব সড়ক বাইলেনে প্রবেশের সময় ৩ জনের একদল সন্ত্রাসী তাকে হত্যার চেষ্টা করে। তারা রিকশা থেকে টানা-হেঁচড়া করে নামিয়ে ধারালো দা, চাপাতি ও বার্মিজ চাকু দিয়ে কুপিয়েছে। ছিনতাই নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বজনদের কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি। এ মুহূর্তে তাকে ঢাকায় নেয়ার জন্য স্বজনদের তোড়জোড় করতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানার ওসি কাজী বাবুল হোসেন হাসপাতালে যান। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক জানিয়েছেন-আহত ব্যক্তির শরীরে ৫টি গভীর ক্ষত চিহৃ রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হামলার শিকার মৃত্যুঞ্জয় সাহা (৪৫) মুজিব সড়ক বাইলেনে ভরত বিশ্বাসের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। পাশেই তার শ্বশুড় নন্দ সাহার বাড়ি। তিনি হিরন্ময় সাহার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান-চুড়িপট্টিতে মৃত্যুঞ্জয় সাহার কসমেটিক্সের ব্যবসা রয়েছে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও তিনি রিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। তার বহনকারী রিকশা মুজিব সড়ক বাইলেন ষষ্টিতলাপাড়ায় প্রবেশের সময় (রাত ৯টা ১০ মিনিট) তাকে টেনে-হেঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত ৩ সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ীভাবে কোপাতে থাকে। তবে এটি ছিনতাই নাকি হত্যার চেষ্টা তা-নিশ্চিত হতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শীরা। সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। তারপর আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেন। হাত ও পেটে একাধিক স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে এমনভাবে কোপানো হয়েছে-যা খুবই বিভৎস্য এবং অমানবিক মন্তব্য করে একাধিক সূত্রের ধারণা টাকা পয়সা ছিনতাই করতে এভাবে কোপানোর বিষয়টি সন্দেহজনক। সূত্রের ধারণা কোনো পূর্ব শত্রুতার কারণে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়-আহত মৃত্যুঞ্জয় সাহা সকালে দোকানে যান আর রাতে বাড়ি ফেরেন। তাকে কখনো কারোর সাথে ঝগড়া-বিবাদ করতে দেখা যায়নি। তাহলে কেন এমন নৃশংসতা-প্রশ্ন এলাকাবাসীর। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন-ভিকটিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। যেকারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানার ওসি কাজী বাবুল হোসেন জানান-যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক,তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এরমধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার ও মোটিভ উদঘাটনে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
